ক্রাইম রিপোর্টার:
রমজানকে কেন্দ্র করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় রংপুর সদরে ভয়াবহ সামাজিক অবক্ষয়ের চিত্র ফুটে উঠছে। অভিযোগ উঠেছে, অবাধ অবসর সময়কে পুঁজি করে এক শ্রেণির অসাধু চক্র কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মোবাইল গেম, অনলাইন ক্যাসিনো, জুয়া ও মাদকের মতো ভয়ঙ্কর নেশার জগতে ঠেলে দিচ্ছে। ফলে অল্প বয়সেই অনেক শিক্ষার্থী বিপথগামী হয়ে পড়ছে, যা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ও সচেতন মহল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ দিনের পর দিন মোবাইল ফোনে আসক্ত হয়ে পড়ছে। বিভিন্ন অনলাইন গেমের আড়ালে চলছে টাকার লেনদেন, যা অনেক ক্ষেত্রে অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনোর রূপ নিচ্ছে। একই সঙ্গে কিছু এলাকায় গোপনে গড়ে উঠেছে মাদক সেবন ও জুয়ার আড্ডা, যেখানে কিশোরদের উপস্থিতি বাড়ছে উদ্বেগজনক হারে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রংপুর সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কিশোরদের দলবদ্ধ আড্ডা চোখে পড়ে। এসব আড্ডায় মোবাইল গেমের পাশাপাশি অনলাইন বেটিং ও জুয়ার লেনদেন চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এসব কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় সন্তানদের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেকেই অজান্তেই মোবাইল গেম, জুয়া ও মাদকের মতো ভয়ংকর নেশায় জড়িয়ে পড়ছে। বিষয়টি এখন সামাজিক ব্যাধিতে রূপ নিচ্ছে।”
সচেতন মহলের মতে, কিশোরদের এই বিপথগামিতা রোধে শুধু পরিবার নয়, সমাজ ও প্রশাসনেরও কঠোর ভূমিকা প্রয়োজন। তারা মনে করেন, মোবাইল গেম ও অনলাইন জুয়ার অপব্যবহার বন্ধে নজরদারি জোরদার করা এবং মাদক ও জুয়ার আড্ডার বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনা করা জরুরি।
এলাকাবাসীর দাবি, প্রশাসন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আগামী প্রজন্ম ভয়াবহ নৈতিক অবক্ষয়ের মুখে পড়বে। তাই শিক্ষার্থীদের সুস্থ বিকাশ নিশ্চিত করতে পরিবার, সমাজ ও প্রশাসনকে এখনই সমন্বিতভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

