নরসিংদীতে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার লোমহর্ষক ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। নিজের অপরাধ আড়াল করতে অপহরণের নাটক সাজালেও শেষ রক্ষা হয়নি ঘাতক সৎবাবা আশরাফ আলীর। আজ শনিবার (৭ মার্চ) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন পুলিশ সুপার মো. আবদুল্লাহ-আল-ফারুক।
গ্রেপ্তারকৃত আশরাফ আলী (৪০) এরই মধ্যে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে নিজের অপরাধ কবুল করেছেন।
গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সদর উপজেলার মহিষাশুড়া ইউনিয়নের একটি শর্ষেখেত থেকে ওই কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, হত্যাকাণ্ডের ১০-১২ দিন আগে কিশোরীটি দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছিল। এর বিচার চাইতে স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য আহম্মদ আলী দেওয়ানের কাছে গিয়েও কোনো সুরাহা মেলেনি। পরবর্তীতে ২৬ ফেব্রুয়ারি দুপুরে শর্ষেখেতে তাঁর নিথর দেহ পাওয়া যায়। ওই রাতেই কিশোরীর মা বাদী হয়ে ৯ জনের নামে মাধবদী থানায় মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ সুপার জানান, মামলার প্রধান আসামি নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরাসহ আট আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণের তথ্য পাওয়া গেলেও হত্যার বিষয়ে কোনো যোগসূত্র মেলেনি। সন্দেহভাজন হিসেবে গত শুক্রবার (৬ মার্চ) সৎবাবা আশরাফ আলীকে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে মূল রহস্য।
জবানবন্দিতে আশরাফ আলী জানান, কিশোরীর বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হওয়ায় তিনি পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটান। ঘটনার রাতে নির্জন শর্ষেখেতের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় ওড়না দিয়ে গলা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে মেয়েটিকে হত্যা করেন তিনি। পরে দোষ অন্যদের ওপর চাপাতে সুকৌশলে অপহরণের নাটক সাজান এবং বাড়িতে গিয়ে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়েন।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৯ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে সৎবাবা আশরাফ আলী হত্যার দায়ে, নূর মোহাম্মদ নূরাসহ চারজন ধর্ষণের দায়ে এবং সাবেক ইউপি সদস্য আহম্মদ আলী দেওয়ানসহ পাঁচজন অবৈধ সালিশ ও অসহযোগিতার দায়ে অভিযুক্ত। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে আশরাফ আলী, নূরা ও হযরত আলী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলার অপর এক আসামি আবু তাহের এখনো পলাতক রয়েছেন।
উল্লেখ্য, গ্রেপ্তারকৃত আহাম্মদ আলী দেওয়ান মহিষাশুড়া ইউপির সাবেক সদস্য এবং ইউনিয়ন বিএনপির সদ্য বহিষ্কৃত সহসভাপতি।

