ত্রয়োদশ সংসদে স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)। আর ডেপুটি স্পিকার হয়েছেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল হোসেন।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে কন্ঠভোটের মাধ্যমে তাদের নির্বাচিত করা হয়।
মহান মুক্তিযুদ্ধের অনবদ্য সাহসিকতার জন্য রাষ্ট্রের তৃতীয় সর্বোচ্চ বীরত্ব পদবী বীর বিক্রমে ভূষিত হন মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ছিলেন তৎকালিন পাকিস্তান ফুটবল দলের খেলোয়াড় ও অধিনায়ক। ১৯৬৪ খ্রিষ্টাব্দ থেকে পর পর তিনবার পূর্ব পাকিস্তানের দ্রুততম মানব ছিলেন। তার বাবা ডাক্তার আজহার উদ্দিন ১৯৬৩ ও ১৯৬৫ খ্রিষ্টাব্দে দুই বার পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। সেনাবাহিনী থেকে অবসরে এসে বাবার পথ অনুসরণ করে রাজনীতিতে এসেও তিনি মানুষের মন কেড়েছেন।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ভোলা-৩ আসন থেকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হয়ে ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ খ্রিষ্টাব্দে পর পর দুবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরশাদ পতনের পর ১৯৯১ খ্রিষ্টাব্দের পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে পান প্রতীকে ভোলা-৩ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচিত হন। তার সঙ্গে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীরা।
বিজয়ের পর ১৯৯২ খ্রিষ্টাব্দে বিএনপিতে যোগদেন তিনি। ১৯৯৬ খ্রিষ্টাব্দের ষষ্ঠ ও সপ্তম সংসদ নির্বাচনেও বিএনপির হয়ে বিজয়ী হন তিনি। খালেদা জিয়ার মন্ত্রী পরিষদে ষষ্ঠ জাতীয় সংসদে তিনি ১৯ মার্চ ১৯৯৬ থেকে ২৯ মার্চ ১৯৯৬ পর্যন্ত বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অষ্টম জাতীয় সংসদে খালেদা জিয়ার তৃতীয় মন্ত্রী সভায় তিনি ১১ অক্টোবর ২০০১ থেকে ২২ মে ২০০৩ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত পাটমন্ত্রী, ২২ মে ২০০৩ থেকে ২৯ অক্টোবর ২০০৬ পর্যন্ত পানিসম্পদ মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
অ্যাডভোকেট কায়সার কামাল ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসন থেকে বিপুল ব্যবধানে জয়ী হন। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি তিনি ভূমি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।
কায়সার কামাল ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দের ৩১ ডিসেম্বর নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দা উপজেলার চত্রাংপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা প্রয়াত মোস্তফা কামাল মনছুর এবং মাতা বেগম যোবায়দা কামাল। পারিবারিকভাবেই জনপ্রতিনিধিত্ব ও রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত একটি ধারার মধ্যেই তার বেড়ে ওঠা।
তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে গিয়ে ব্যারিস্টার অ্যাট ল ডিগ্রি লাভ করেন। আইন পেশায় সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার পাশাপাশি ছাত্রজীবন থেকেই তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন।

