আনিসুর রহমান, সাভার প্রতিনিধি:
ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩ এর শিমুলতলা জোনাল অফিসে দালাল চক্রের দৌরাত্ম্যে সাধারণ গ্রাহকরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যুৎ সংযোগ, মিটার স্থাপনসহ বিভিন্ন সেবা নিতে এসে গ্রাহকদের হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে বলে জানা গেছে।
সরেজমিনে অফিসে গিয়ে দেখা যায়, ওয়ান পয়েন্ট থেকে শুরু করে জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার ও ইন্সপেক্টরের কক্ষ পর্যন্ত দালালদের অবাধ যাতায়াত রয়েছে। এমনকি কর্মকর্তাদের কক্ষেও তাদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে বলে অভিযোগ করেছেন উপস্থিতরা।
জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ারের কক্ষে এক ব্যক্তিকে স্বাচ্ছন্দ্যে বসে থাকতে দেখা যায়। পরে জানা যায়, তিনি নিজেকে ‘কনসালটেন্ট’ হিসেবে পরিচয় দিলেও অফিসের কোনো সরকারি পদে নেই। অভিযোগ রয়েছে, ওই ব্যক্তি বিভিন্ন কাজে সহযোগিতার নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছেন।
অন্যদিকে ইন্সপেক্টরের কক্ষে এক তালিকাভুক্ত ইলেকট্রিশিয়ানের উপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি পরিদর্শনের সময় প্রভাব খাটিয়ে রিপোর্ট ও সংযোগ অনুমোদনে ভূমিকা রাখেন এবং অনেক ক্ষেত্রে গ্রাহকের আবেদন বাতিলের ক্ষেত্রেও প্রভাব বিস্তার করেন।
এছাড়া তালিকাভুক্ত কিছু ইলেকট্রিশিয়ানের বিরুদ্ধে ওয়ারিং রিপোর্ট দেওয়ার নামে অনিয়ম ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিয়ম অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করে রিপোর্ট দেওয়ার কথা থাকলেও, বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে কাজ ছাড়াই রিপোর্ট দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।
একজন ভুক্তভোগী গ্রাহক বলেন, “নির্ধারিত ইলেকট্রিশিয়ানদের মাধ্যমেই কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছে, এতে ভবিষ্যতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “দক্ষ প্রকৌশলীদের কাজের মূল্যায়ন নেই, অথচ অদক্ষদের মাধ্যমে সেবা নিতে বাধ্য করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে শিমুলতলা জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে গ্রাহকদের দাবি, দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ না নিলে এ ধরনের অনিয়ম ও ভোগান্তি আরও বাড়বে।

