জুলাই–আগস্ট আন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করা হবে আগামী ১৭ নভেম্বর (সোমবার)।
বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) বেলা ১২টা ৯ মিনিটে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল রায়ের দিন নির্ধারণ করেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
এই মামলার তিন আসামি হলেন—
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা,
সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল,
এবং পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন।
এর মধ্যে সাবেক আইজিপি মামুন ইতোমধ্যে রাজসাক্ষী (অ্যাপ্রুভার) হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন।
প্রথম দিকে মামলার একমাত্র আসামি ছিলেন শেখ হাসিনা। পরে চলতি বছরের ১৬ মার্চ প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত আসাদুজ্জামান খান ও মামুনকে মামলায় অন্তর্ভুক্ত করেন।
মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে পাঁচটি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলো হলো—
১৪ জুলাই গণভবনে উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান, আন্দোলনকারীদের ওপর প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ, রংপুরে ছাত্র আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা, ঢাকার চানখাঁরপুলে ছয় আন্দোলনকারীকে গুলি করে হত্যা, এবং আশুলিয়ায় ছয়জনকে পুড়িয়ে হত্যা।
২০২৪ সালের ১০ জুলাই এই অভিযোগগুলো গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল।
মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল হয় চলতি বছরের ১২ মে। এরপর ১ জুন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) জমা দেয় প্রসিকিউশন। গত ১২ অক্টোবর থেকে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত চলে উভয় পক্ষের চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক (ফাইনাল আর্গুমেন্টস)।
রাষ্ট্রপক্ষ শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছে, আর আসামিপক্ষ খালাস চেয়েছে।
আসামি শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান পলাতক, আর সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন একমাত্র গ্রেপ্তার আসামি, যিনি আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হয়েছেন।
প্রসিকিউটর মো. মিজানুল ইসলাম বলেন, “রায়ের তারিখ ঘোষণাকে কেন্দ্র করে দেশে কিছু মহল বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দৃঢ়তার সঙ্গে তা মোকাবিলা করবে।”
তিনি আরও বলেন, “আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারপ্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও স্বাভাবিকভাবে চলছে। সরকারের বিরুদ্ধে যে প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে, তা ভিত্তিহীন।”
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠিত হয়।
এরপর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় প্রথম মামলাটি দায়ের হয় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে। একই বছরের ১৭ অক্টোবর পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালের প্রথম বিচারকাজ শুরু হয় এবং সেদিনই শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

