সত্যজিৎ দাস (মৌলভীবাজার প্রতিনিধি):
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ফরম সংগ্রহ ও জমা দিয়েছেন বিএনপি নেত্রী শেগুফতা রব্বানী। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তিনি মনোনয়নপত্র জমা দেন।
রাজনীতিতে দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকা পরিবার থেকে আসায় তার এই পদক্ষেপ রাজনৈতিক অঙ্গনে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি সাবেক চারবারের সফল সংসদ সদস্য খালেদা রব্বানী-এর জ্যেষ্ঠ কন্যা।
মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর শেগুফতা রব্বানী বলেন,দল তাকে মনোনয়ন দিলে তিনি বিশেষ করে মৌলভীবাজার জেলার উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করবেন। স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের উন্নয়ন,নাগরিকদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা,নারীর নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি তার প্রধান লক্ষ্য হবে। পাশাপাশি চা শ্রমিক,ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষায়ও তিনি কাজ করতে চান বলে জানান।
তিনি বলেন,দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিবেশে বেড়ে ওঠার কারণে মানুষের সমস্যা ও সম্ভাবনা কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছেন। স্বৈরাচারী শাসনামলে মৌলভীবাজার সহ দেশের অনেক বিএনপি নেতাকর্মী নির্যাতনের শিকার হলে তিনি তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং সহায়তা করেছেন। অনেক নেতাকর্মী মিথ্যা মামলায় পলাতক থাকাকালে ঢাকায় তার বাসায় আশ্রয় নিয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
শেগুফতা রব্বানী জানান,গত ১৭-১৮ বছর ধরে রাজনৈতিক প্রতিকূলতা ও নানা নির্যাতনের মধ্যেও তিনি ও তার পরিবার দলের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৫,ঢাকা-১৭ ও মৌলভীবাজার-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থীদের পক্ষে প্রচার ও জনসংযোগে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন,মৌলভীবাজার শহরের শাহ মোস্তফা সড়কে তাদের পারিবারিক বাসভবন একসময় জেলা বিএনপির কার্যক্রমের কেন্দ্র ছিল। সেখান থেকেই দলীয় কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতো। তার মা খালেদা রব্বানী জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং চারবার সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন।
পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরে শেগুফতা রব্বানী বলেন,ছোটবেলা থেকেই তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান,সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর রাজনৈতিক আদর্শ সম্পর্কে জানার সুযোগ পেয়েছেন।
শিক্ষাজীবনে তিনি মৌলভীবাজারের আলী আমজাদ বালিকা বিদ্যালয় ও মৌলভীবাজার সরকারি কলেজে পড়াশোনা শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করতে মনোনয়ন ফরম বিক্রি ও জমা গ্রহণ কার্যক্রম শুরু করেছে বিএনপি। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকাল ১১টা থেকে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রম শুরু হয়।
ফরম বিক্রির উদ্বোধন করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি জানান,আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ১২ এপ্রিল পর্যন্ত মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ ও জমা দিতে পারবেন। প্রতিটি ফরমের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে দুই হাজার টাকা এবং জমা দেওয়ার সময় জামানত হিসেবে দিতে হবে ৫০ হাজার টাকা।
উদ্বোধনী বক্তব্যে রিজভী বলেন,দেশে গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে বিএনপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অতীতে যারা রাজনৈতিক নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন,তাদের মধ্য থেকে সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থী নির্বাচনে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে শেগুফতা রব্বানীর সক্রিয় রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তাকে সম্ভাবনাময় নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য,সাবেক সংসদ সদস্য খালেদা রব্বানী বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলার একজন পরিচিত রাজনীতিবিদ এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর দীর্ঘদিনের নেতা ছিলেন। তিনি দ্বিতীয় জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসন-২৫ থেকে ১৯৭৯ সালের ২৪ নভেম্বর থেকে ১৯৮১ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে পঞ্চম ও ষষ্ঠ জাতীয় সংসদেও একই সংরক্ষিত আসন থেকে ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৯৯৬ সালের ১২ জুন পর্যন্ত এমপি ছিলেন।
পরবর্তীতে অষ্টম জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসন-১০ থেকে ২০০১ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০০৬ সালের ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
দলীয় রাজনীতিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির মহিলা বিষয়ক সম্পাদক, মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি এবং জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রধান উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে দলীয় সংগঠন শক্তিশালী করা এবং তৃণমূল নেতাকর্মীদের পাশে থাকার জন্য তিনি বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন।

