মো: গোলাম কিবরিয়া, রাজধশাহী জেলা প্রতিনিধি:
রাজশাহী বিভাগে হঠাৎ জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দেওয়ায় যাতায়াতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষের।
বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। চালকরা অভিযোগ করেছেন, চাহিদামতো তেল পাচ্ছেন না।
রাজশাহীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘ সারি লক্ষ্য করা গেছে। তেল পাওয়ার আশায় অনেককেই এক পাম্প থেকে অন্য পাম্পে ঘুরছেন।
কোথাও কোথাও তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় কয়েকটি ফিলিং স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। যেসব স্টেশনে তেল রয়েছে, সেখানে তেল বিক্রি হচ্ছে সীমিত পরিমাণে।
পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটর্স, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহী বিভাগের আট জেলায় মোট ২৭৯টি ফিলিং স্টেশন রয়েছে।
গত তিন দিন ধরে এসব স্টেশনে পেট্রোল ও অকটেনের সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ফলে হঠাৎ করেই তেল সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে।
নগরীর ভাটাপাড়ার বাসিন্দা বলেন , তিনি তিনটি ফিলিং স্টেশন ঘুরে মাত্র ৮০০ টাকার পেট্রোল নিতে পেরেছেন। এর মধ্যে একটি স্টেশন থেকে ৫০০ টাকার এবং আরেকটি স্টেশন থেকে ৩০০ টাকার তেল পেয়েছেন।
রাজশাহী নগরীতে তেলের সংকটের বিষয়টি বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ওই দিন নগরীর বেশিরভাগ ফিলিং স্টেশন বাইকারদের চাহিদামতো তেল দেওয়া বন্ধ করে দেয়। কোনো কোনো স্টেশনে সর্বোচ্চ ২০০ টাকা এবং কোথাও ৫০০ টাকার বেশি তেল দেওয়া হয়নি।
একজন মটর বাইক চালক, প্রতিদিনই তার বাইক ব্যবহার করতে হয়। তাই বিভিন্ন পাম্পে ঘুরে বাইকের ট্যাংকিতে তেল ভরার চেষ্টা করছেন।
পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটর্স, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের রাজশাহী বিভাগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান যুদ্ধের প্রভাবের কারণে তেল সরবরাহে সমস্যা দেখা দিয়েছে। গত তিন দিন ধরে ফিলিং স্টেশনগুলো চাহিদা অনুযায়ী তেল পাচ্ছে না। ফলে পাম্পগুলোও গ্রাহকদের চাহিদামতো তেল দিতে পারছে না।”
তিনি বলেন, “ইতোমধ্যে কয়েকটি ফিলিং স্টেশন তেল না থাকায় সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। যেসব স্টেশনে তেল রয়েছে, সেগুলোতেও সীমিত পরিমাণে বিক্রি করা হচ্ছে।”
আব্দুল জলিল বলেন, “মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হওয়ায় তেল কেনার হিড়িক পড়েছে। কেউ নিয়মিত বাইক ব্যবহার না করলেও অতিরিক্ত তেল কিনে রাখার চেষ্টা করছেন।
“আবার যারা বেশি বাইক চালান তারা একাধিক পাম্পে ঘুরে ট্যাংকি ভরে বাড়িতে সংরক্ষণ করছেন। এতে সংকট আরও দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে।” পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “সেটা এখনো নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।”

