মুহাম্মদ মহসিন আলী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় গত কয়েকদিন ধরে তীব্র জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। জেলার প্রায় সব পেট্রোল পাম্পেই তেলের সরবরাহ কমে গেছে বা একেবারেই বন্ধ রয়েছে। কোথাও কোথাও সীমিত আকারে অল্প সময়ের জন্য তেল বিক্রি করা হলেও দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেক চালককে ফিরতে হচ্ছে খালি হাতে। অনেক পাম্পের সামনে ঝুলছে ‘তেল নেই’ বোর্ড।
পাম্প মালিক ও কর্মচারীদের দাবি, সরবরাহ বন্ধ বা কমে যাওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন বলেই অভিযোগ করছেন সাধারণ মানুষ। পাম্পে তেল না থাকলেও জেলার বিভিন্ন স্থানে খুচরা দোকানগুলোতে অবাধে বিক্রি হচ্ছে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল—তাও আবার সরকারি নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি দামে।
অভিযোগ রয়েছে, এক শ্রেণির অসাধু চক্র পাম্প কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগসাজশ করে তেল সরিয়ে খোলা বাজারে বিক্রি করছে। যেখানে প্রতি লিটার পেট্রোলের সরকারি মূল্য ১২০ টাকা, সেখানে তা বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২২০ টাকায়। অকটেন ১২৫ টাকার পরিবর্তে বিক্রি হচ্ছে ২৩০ থেকে ২৫০ টাকায়।
জেলার বিজয়নগর উপজেলার চান্দুরা পেট্রোল পাম্পে সীমিত আকারে তেল পাওয়া গেলেও মির্জারপুর, আমতলী, চম্পকনগর, সিঙ্গারবিলসহ বিভিন্ন এলাকার অলিগলিতে খোলা দোকানে বেশি দামে জ্বালানি বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে সদর উপজেলার ঘটুরা তিতাস ফিলিং স্টেশন, ভাদুঘরের মেসার্স এম রহমান ফিলিং স্টেশন এবং আশুগঞ্জের চিশতী ফিলিং স্টেশনসহ আশপাশের অধিকাংশ পাম্পেই তেলের সংকট বিরাজ করছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—পাম্পে তেল না পাওয়া গেলেও উপজেলার মোড়ে মোড়ে বোতলজাত অবস্থায় খোলা বাজারে সহজেই মিলছে জ্বালানি। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, প্রশাসনের নজরদারি থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এভাবে তেল মজুদ ও কালোবাজারি চলছে।
সদর উপজেলার গোকর্ণঘাট এলাকায় মুদি দোকান, গ্যারেজ ও শ্রমিকদের আবাসস্থলে বিপুল পরিমাণ তেল মজুদের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর আগে নাসিরনগরে অভিযান চালিয়ে হাজার লিটার তেল জব্দ করা হয়। তবুও পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
জেলার বিভিন্ন পাম্পে গিয়ে দেখা গেছে, শত শত যানবাহনের দীর্ঘ সারি সড়ক ছাড়িয়ে মূল সড়ক পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও প্রয়োজনীয় তেল পাচ্ছেন না। যেসব পাম্পে সামান্য তেল আসে, সেখানে রেশনিং পদ্ধতিতে তেল দেওয়া হচ্ছে, ফলে ভোগান্তি আরও বাড়ছে।
মোটরসাইকেল চালক আরিফ হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “তিন ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল পাইনি। অথচ পাশের দোকানেই সেই তেল বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। তদারকি করার কেউ নেই?”
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. আবু সাইদ জানান, “যেখানে তেল মজুদ করা হচ্ছে, সেখানে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েক হাজার লিটার তেল জব্দ করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের স্বাভাবিকভাবে তেল বিক্রি করতে বাধ্য করা হচ্ছে।”
তবে সাধারণ মানুষের দাবি—শুধু অভিযান নয়, কার্যকর ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে এই সংকট ও অনিয়ম দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হোক।

