আতাউর রহমান কাওছার, ওসমানীনগর (সিলেট) প্রতিনিধি
সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলা–র বুরুঙ্গা ইউনিয়ন–এর পূর্ব সিরাজনগর দিঘীরপাড় এলাকায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ছোট্ট একটি ঘরেই বসবাস ১৭ বছরের জুলি বেগমের। সরকারিভাবে পাওয়া এই ঘরই তার একমাত্র ঠিকানা। কিন্তু মাথা গোঁজার ঠাঁই থাকলেও চিকিৎসার অভাবে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে তার জীবন।
শৈশবেই বাবা–মাকে হারানো জুলি বড় হয়েছে ফুফু জাহানারা বেগমের কাছে। ফুফুরও বিয়ে হয়নি, নেই স্থায়ী কোনো আয়। দু’জনের জীবন চলে অনিশ্চয়তার ওপর—কখনো কাজ জোটে, কখনো জোটে না; অনেক সময় দু’বেলা খাবারও জোটে না।
তিন মাস আগে হঠাৎ করেই জুলির কোমরে অস্বাভাবিক ফোলাভাব ও তীব্র ব্যথা শুরু হয়। অবস্থার অবনতি হলে স্থানীয় চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন তারা। প্রাথমিক পরীক্ষার পর চিকিৎসক জানান, জুলির মেরুদণ্ডে গুরুতর সমস্যা দেখা দিয়েছে—সম্ভবত ভেঙে গেছে। দ্রুত এমআরআই করে পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা ও চিকিৎসা শুরু করা জরুরি।
কিন্তু সেই এমআরআই করানোর মতো অর্থ তাদের নেই। দিন এনে দিন খাওয়া এই পরিবারে নিয়মিত ওষুধ কেনার সামর্থ্যও নেই। ফলে গত তিন মাস ধরে জুলি বিছানায় পড়ে আছে। একসময় যে মেয়েটি পড়াশোনা করে কিছু করার স্বপ্ন দেখত, এখন সে নড়াচড়া করতেও কষ্ট পায়। ব্যথায় রাত কাটে নির্ঘুম।
জাহানারা বেগম বলেন, “ঘর আছে, কিন্তু ঘরে সুখ নেই। ডাক্তার এমআরআই করতে বলছেন, কিন্তু টাকা কোথায় পাব?”
প্রতিবেশীরা সহানুভূতি জানালেও বড় অঙ্কের চিকিৎসা ব্যয়ের ভার নেওয়া কারও পক্ষেই সম্ভব নয়। দারিদ্র্য, অসহায়ত্ব আর চিকিৎসা–অভাবের অন্ধকারে জুলির জীবনের আলো যেন ধীরে ধীরে নিভে যাচ্ছে।
সমাজের সহমর্মিতা, প্রশাসনের নজর ও মানবিক সহায়তা পেলে হয়তো সময়মতো চিকিৎসার মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে এই কিশোরী।
জুলি বেগমের চিকিৎসা সহায়তায় এগিয়ে আসতে পারেন যে কেউ। যেকোনো পরিমাণ আর্থিক সহায়তা পাঠানো যাবে (বিকাশ–পার্সোনাল) নম্বরে: ০১৭৯৬৮৫৫০৫২ (রোগীর ফুফু জাহানারা বেগম)।

