ঢাকার কেরানীগঞ্জে বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাতে মুক্তিরবাগ এলাকায় একটি পাঁচতলা ভবনের দ্বিতীয় তলা থেকে মা ও মেয়ের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। খাতার নিচ থেকে রোকেয়া রহমানের এবং বাথরুমের ছাদের ওপর থেকে তার ১৪ বছর বয়সী কন্যা ফাতেমার মরদেহ পাওয়া যায়।
মৃতদেহ উদ্ধারকারী ফ্ল্যাটের বাসিন্দা গৃহশিক্ষিকা নুসরাত মিম (২৪), তার স্বামী হুমায়ুন (৩০) এবং নুরজাহান (১৫) ও মাহি (১১) নামে চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।
ভবন মালিক শামিম মিয়া জানান, প্রায় আড়াই মাস আগে রঙমিস্ত্রি হুমায়ুন ও নুসরাত মিম ওই ফ্ল্যাটটি ভাড়া নিয়েছিলেন। স্থানীয়রা জানান, গত কয়েকদিন ধরে মুক্তিরবাগ এলাকায় ফ্ল্যাটের আশপাশে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল। শুরুতে সেটি ময়লার গন্ধ মনে হলেও বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে দুর্গন্ধ বেড়ে যায়। পরে এলাকাবাসী ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে জানালে, পুলিশ ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে মা ও মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করে। পুলিশের ধারণা, প্রায় ২২ দিন আগে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল এবং মরদেহ গোপন করা হয়েছিল।
নিহত রোকেয়ার স্বামী ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীর সহকারী শাহিন মিয়া জানান, তার মেয়ে ফাতেমা ২৫ ডিসেম্বর গৃহশিক্ষিকা নুসরাত মিমের বাসায় পড়তে আসে। সেই দিন থেকে স্ত্রী ও মেয়ে নিখোঁজ ছিলেন। পরে ২৬ ডিসেম্বর তিনি কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। ৬ জানুয়ারি নুসরাত মিম ও তার স্বামীকে সন্দেহ করে হত্যা মামলায় অভিযোগ দায়ের করা হয়।
শাহিন মিয়ার অভিযোগ, তার স্ত্রী ও মেয়ের গলায় স্বর্ণালঙ্কার ছিল এবং তার ধারণা, স্বর্ণালঙ্কারের লোভের কারণে তাদের হত্যা করা হয়েছে।
কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম সাইফুল আলম জানিয়েছেন, এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চারজনকে আটক করা হয়েছে এবং খুব শিগগিরই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করা হবে।

