সত্যজিৎ দাস (মৌলভীবাজার প্রতিনিধি):
মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার কাউয়াদীঘি হাওরপারের ওয়াপদা-কাশিমপুর হাটের আশপাশে পরিযায়ী ও দেশি পাখি শিকার বাড়ছে। স্থানীয় সূত্র জানায়,শীতের শুরুতেই হাওরাঞ্চলে বিভিন্ন জায়গায় জাল পেতে ও এয়ারগান ব্যবহার করে পাখি শিকার করা হচ্ছে, আর বেশির ভাগ পাখি গোপনে স্থানীয় বাজারে বিক্রি হয়।
২৮ নভেম্বর সকালে কাশিমপুর এলাকার মাঠে দেখা যায়-বেশ কয়েকটি জায়গায় খুঁটি টাঙিয়ে জাল পাতা রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি,রাতজুড়ে উড়ে চলা পাখিরা এসব জালে আটকা পড়ে,পরে শিকারিরা সেগুলো সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট ক্রেতার কাছে পৌঁছে দেয়।
হাকালুকি,কাউয়াদীঘি ও হাইল হাওর-সংলগ্ন এলাকায়ও একই ধরনের শিকারের তথ্য মিলেছে। ধানের খেত,বিল ও মাঠের ধার ঘেঁষে রাতের অন্ধকারে জাল পাতা থাকায় অনেক পাখি দ্রুত শনাক্ত করতে পারে না। কিছু এলাকায় নাকি বিষটোপ ব্যবহার করেও পাখি মারা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকজন পাখি উদ্ধার ও অবমুক্তির দৃশ্য ছড়িয়ে পড়ে। ২ ডিসেম্বর দুটি কালেম পাখি এবং ১৩ নভেম্বর চারটি সরালি হাঁস অবমুক্ত করার ভিডিও প্রকাশিত হয়। তবে স্থানীয়দের মতে,শিকারের বড় অংশই অঘোষিতভাবে চলে,ফলে অনেক ঘটনা প্রকাশ্যে আসে না।
পরিবেশকর্মী তুহিন জুবায়ের জানান,হাওরাঞ্চলে নিয়মিত পাখি শিকার হওয়া উদ্বেগজনক। তাঁর মতে,পরিযায়ী পাখি হাওরের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে,কিন্তু আইন প্রয়োগে দুর্বলতা থাকায় শিকার বন্ধ করা যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের সিলেট বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবুল কালাম বলেন,বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চলছে এবং উদ্ধার হওয়া পাখি অবমুক্ত করা হচ্ছে। তবে জনবলসংকটের কারণে সব এলাকায় পুরোপুরি তদারকি করা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি জানান, উপজেলা পর্যায়ে আলাদা অফিস স্থাপন হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হতো।
স্থানীয়রা মনে করছেন,শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিযায়ী পাখির আগমন এবং শিকার-দু’টিই বাড়বে। তাই এখনই কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

