মঙ্গলবার সকাল। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে চোখ রাখতেই মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে আলোচনার ঝড়—সৌদি আরব এক বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও দেশীয় বাজারে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশটি বাংলাদেশ-ভারতসহ ৪০টি দেশ থেকে মুরগি ও ডিম আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
খবরটি প্রকাশ করে Gulf News। প্রতিবেদনে জানানো হয়, এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে Saudi Food and Drug Authority—যারা দেশটির খাদ্য ও ওষুধ নিরাপত্তা তদারকি করে। সংস্থাটি বলেছে, এটি একটি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা। বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য পরিস্থিতি, বিশেষ করে প্রাণিসম্পদে ছড়িয়ে পড়া রোগের আপডেট নিয়মিত পর্যালোচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যায় উঠে আসে দীর্ঘ প্রেক্ষাপট। কিছু নিষেধাজ্ঞা ২০০৪ সাল থেকেই কার্যকর রয়েছে। আবার কিছু নিষেধাজ্ঞা ধাপে ধাপে আরোপ করা হয়েছে আন্তর্জাতিক ঝুঁকি মূল্যায়ন ও প্রাণীর রোগ সংক্রান্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে। বিশেষ করে অত্যন্ত রোগজীবাণু এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জার প্রাদুর্ভাব বড় একটি কারণ।
সর্বশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী যেসব দেশ থেকে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে—বাংলাদেশ, ভারত, আফগানিস্তান, আজারবাইজান, জার্মানি, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, বুলগেরিয়া, তাইওয়ান, জিবুতি, দক্ষিণ আফ্রিকা, চীন, ইরাক, ঘানা, ফিলিস্তিন, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, কাজাখস্তান, ক্যামেরুন, দক্ষিণ কোরিয়া, উত্তর কোরিয়া, লাওস, লিবিয়া, মায়ানমার, যুক্তরাজ্য, মিশর, মেক্সিকো, মঙ্গোলিয়া, নেপাল, নাইজার, নাইজেরিয়া, হংকং, জাপান, বুর্কিনা ফাসো, সুদান, সার্বিয়া, স্লোভেনিয়া, কোট ডি’আইভরি এবং মন্টিনিগ্রো।
তবে নিষেধাজ্ঞা সবার ক্ষেত্রে একরকম নয়। অস্ট্রেলিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, বেলজিয়াম, ভুটান, পোল্যান্ড, টোগো, ডেনমার্ক, রোমানিয়া, জিম্বাবুয়ে, ফ্রান্স, ফিলিপাইন, কানাডা, মালয়েশিয়া, অস্ট্রিয়া এবং গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের নির্দিষ্ট রাজ্য বা শহরের ওপর আংশিক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
এদিকে কর্তৃপক্ষ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও স্পষ্ট করেছে। তাপ-প্রক্রিয়াজাত (heat-processed) মুরগির মাংস বা সংশ্লিষ্ট পণ্যের ক্ষেত্রে এই অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য নয়—যদি সেগুলো অনুমোদিত স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা মান পূরণ করে। তবে শর্ত রয়েছে: প্রতিটি চালানের সঙ্গে অবশ্যই সরকারি অনুমোদনের সনদ থাকতে হবে, যেখানে নিশ্চিত করা হবে যে পণ্যগুলো এমনভাবে প্রক্রিয়াজাত করা হয়েছে যাতে এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা ও নিউক্যাসল রোগের ভাইরাস সম্পূর্ণ নির্মূল হয়েছে। এই সনদ রপ্তানিকারক দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্বারা অনুমোদিত হতে হবে।
সব মিলিয়ে, বৈশ্বিক স্বাস্থ্যঝুঁকির প্রেক্ষাপটে খাদ্য আমদানিতে সতর্কতার নতুন অধ্যায় শুরু করল সৌদি আরব। আর এই সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়তে পারে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পোলট্রি খাত ও রপ্তানি বাণিজ্যে।

