শহীদুজ্জামান শিমুল, সাতক্ষীরা :
সাতক্ষীরাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারী) দুপুর ১ টা ৫৩ মিনিটে এই ভূকম্পন অনুভূত হয়।
মাই আর্থকোয়েক অ্যালার্টের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার দুপুর ১টা ৫৩ মিনিটে এই ভূমিকম্প আঘাত হানে। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল সাতক্ষীরার আশাশুনি। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৩। ভূমিকম্পে সাতক্ষীরায় মানুষ শক্ত ঝাঁকুনি অনুভব করেছেন বলে জানা গেছে। ভূমিকম্পের শক্ত ঝাঁকুনিতে নামাজ পড়তে যাওয়া অনেকে আতঙ্কিত হয়ে মসজিদ থেকে বেরিয়ে যান। অনেকের বাড়ি ও বিভিন্ন স্থপনায় ফাটল দেখা দিয়েছে।
এ ছাড়া হাসপাতালে রোগীদের ও আতঙ্কিত হয়েও দৌড়াদৌড়ি করতে দেখা গেছে। সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা থানার নগরঘাটায় কয়েকটি মাটির ঘরের খোলার চাল ভেঙে পড়েছে।
সাতক্ষীরার কাটিয়া এলাকার গৃহবধু রোকসানা আক্তার বলেন, তিনি তখন ঘরের মধ্যে টুকটাক কাজ করছিলেন। হঠাৎ তার মনে হচ্ছিল, তিনি ডানদিকে একবার তারপর বাম দিকে ঢলে পড়ছেন। আতঙ্কিত হয়ে তিনি ঘর থেকে বের হয়ে আসেন। আশপাশের কিশোর-কিশোরীসহ সর্বস্তরের মানুষের চিৎকার শুনেছেন তিনি।
একই এলাকার বাসিন্দা জাহারুল ইসলাম টুটুল বলেন, তিনি মসজিদে জুমআর নামাজ পড়ছিলেন। দোতলা মসজিদটি দোল খাওয়া শুরু করলে তারা মসজিদ থেকে বেরিয়ে আসেন। সদর উপজেলার ঝাউডাঙ্গা মহাশশ্মানের প্রাচীর ভেঙে পড়েছে। মন্দিরে ফাটল দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া ভূকম্পনের সময় অনেকের বাড়ির গ্যাসের চুলা ও আসবাবপত্র পড়ে ভেঙে গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
ঝাউডাঙ্গা মহাশশ্মানের সাধারণ সম্পাদক চন্ডী ঘোষ বলেন, তাদের শশ্মানের প্রাচীর ভেঙে রাস্তার উপর পড়েছে। তবে, কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
আশাশুনির খাজরা গ্রামের বাসিন্দা কৃষ্ণ ব্যানার্জী বলেন, ভূমিকম্পে তার দোতলা বাড়ির দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে। ভূমিকম্পের সময় তাদের এলাকার অনেকেই ঘর থেকে বের হয়ে বাইরে চলে আসেন। এতে মানুষজন আতংকিত হয়ে পড়েছে।
সাতক্ষীরার প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পরযবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী জানান, দুপুর ১টা ৫২ মিনিট ২৯ সেকেন্ডে এ ভূমিকম্প অনুভূত হয়। রিকটার স্কেলে যার মাত্রা ৫.৪। আর এর উৎপত্তিস্থল সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলায়, যেটি খুলনার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ও সাতক্ষীরার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত। তবে এখন পর্যন্ত জেলায় কোন প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। এর আগে গত ৩ ফেব্রুয়ারি সাতক্ষীরার কলারোয়ায় ৪.১ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল।ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম ২৬ দিনে দেশে অন্তত আটবার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে।
আজকের আগে গত বুধবার রাতে মিয়ানমারে সৃষ্ট ৫.১ মাত্রার একটি মাঝারি ভূমিকম্পে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা কেঁপে ওঠে। ১ ফেব্রুয়ারি সিলেটে ৩ মাত্রার মৃদু কম্পন দিয়ে শুরু হয়ে ৩ ফেব্রুয়ারি একই দিনে তিনবার ভূকম্পন অনুভূত হয়। এর মধ্যে সাতক্ষীরার কলারোয়ায় ৪.১ মাত্রা এবং মিয়ানমারে ৫.৯ ও ৫.২ মাত্রার দুটি কম্পন ছিল।
এরপর ৯ ও ১০ ফেব্রুয়ারি সিলেটে আরও দুবার এবং ১৯ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জের ছাতকে ৪.১ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। সব মিলিয়ে ২৬ দিনে আটবার কেঁপেছে দেশ।

