ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) শপথ পাঠ করিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন। বেলা পৌনে ১১টার দিকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে নির্বাচিত এমপিদের শপথ পড়ানো হয়। পরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ও অন্যান্য দল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা শপথ নেন।
সাধারণত নির্বাচনের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ান জাতীয় সংসদের স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার। সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদে সে কথাই বলা আছে। তবে চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বর্তমানে সংসদ নেই, স্পিকারও নেই; এমনকি ডেপুটি স্পিকার কারাগারে। সেই প্রেক্ষাপটেই এবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পড়ান নবনির্বাচিত সদস্যদের।
শপথের মধ্য দিয়ে দায়িত্ব নেওয়ার পর একজন সংসদ সদস্য (এমপি) শুধু আইন প্রণয়নের দায়িত্বই পালন করেন না, বরং তিনি বেতন-ভাতাসহ নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেন। আইন অনুযায়ী একজন এমপির মাসিক বেতন ৫৫ হাজার টাকা। এর সঙ্গে নির্বাচনী এলাকা ভাতা হিসেবে প্রতি মাসে ১২ হাজার ৫০০ টাকা এবং সম্মানী ভাতা হিসেবে ৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়। মাসিক পরিবহন ভাতা ৭০ হাজার টাকা, নির্বাচনী এলাকায় অফিস খরচের জন্য ১৫ হাজার টাকা এবং বাসায় টেলিফোন ভাতা বাবদ ৭ হাজার ৮০০ টাকা বরাদ্দ থাকে। এছাড়া লন্ড্রি ভাতা ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং ক্রোকারিজ ও টয়লেট্রিজ কেনার জন্য মাসিক ৬ হাজার টাকা পান তারা।
দেশের অভ্যন্তরে বার্ষিক ভ্রমণ খরচ হিসেবে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ রয়েছে। একজন এমপি বছরে পাঁচ লাখ টাকার স্বেচ্ছাধীন তহবিল পান। শুল্কমুক্তভাবে গাড়ি আমদানির সুবিধাও রয়েছে। সংসদ সদস্যদের জন্য জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় এমপি হোস্টেলের ব্যবস্থাও আছে।
এর বাইরে ২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত প্রত্যেক সংসদ সদস্যের জন্য বছরে চার কোটি টাকা করে থোক বরাদ্দ দেওয়া হয়, যা আগে ছিল দুই কোটি টাকা। এ থোক বরাদ্দ নিয়ে গবেষণা প্রতিষ্ঠান ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, একজন এমপি তার পছন্দ অনুযায়ী উন্নয়ন প্রকল্পে এ অর্থ ব্যয় করতে পারেন। কোন প্রকল্পে অর্থ ব্যয় হবে, সে সিদ্ধান্ত মূলত তার এখতিয়ারেই পড়ে।
শুধু বেতন-ভাতাই নয়, স্থানীয় পর্যায়ে একজন সংসদ সদস্যের প্রভাবও ব্যাপক। সংবিধান অনুযায়ী তাদের মূল দায়িত্ব আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া। তবে ড. ইফতেখারুজ্জামান মনে করেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এ ভূমিকা অনেক ক্ষেত্রে প্রশাসনিক ও নির্বাহী প্রভাবেও রূপ নিয়েছে। কাজের বিনিময়ে খাদ্য, বয়স্ক ভাতা এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর প্রায় ৪০ ধরনের প্রকল্পে কারা সুবিধা পাবেন—সে ক্ষেত্রেও স্থানীয় সংসদ সদস্যের সম্মতির বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

