সাদ্দাম প্রায় ১১ মাস ধরে কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে বন্দি। জামিনের আশা জাগলেও বারবার নতুন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এই দীর্ঘ বন্দিজীবনের মাঝেই তিনি খবর পেয়েছিলেন যে তিনি বাবা হয়েছেন। কিন্তু সেই আনন্দ স্পর্শ করার সৌভাগ্য তাঁর হয়নি। যে সন্তানকে এক পলক দেখার জন্য তিনি প্রতিটি আদালত হাজিরার দিন আকুতি জানাতেন, সেই সন্তানের নিথর দেহটাও শেষবার দেখার সুযোগ পেলেন না তিনি।
সাদ্দামের আইনজীবীর ভাষ্যমতে, আদালতে হাজিরা দিতে এলেই সাদ্দাম ম্লান মুখে বলতেন, “ভাই, আমার সন্তানকে এখন পর্যন্ত কোলে নিতে পারি নাই।” জেলের ঘানি টানার কষ্টের চেয়েও এই একটি না পাওয়ার বেদনা সাদ্দামকে তিলে তিলে শেষ করছিল। তিনি স্বপ্ন দেখতেন, একদিন মুক্ত হয়ে বুক ভরে শ্বাস নেবেন এবং পরম আদরে নিজের সন্তানকে জড়িয়ে ধরবেন।
দুর্ভাগ্যের এক কালো ছায়া সাদ্দামের সাজানো স্বপ্নগুলোকে চুরমার করে দিয়েছে। সম্প্রতি সাদ্দামের স্ত্রী ও তাঁর নয় মাস বয়সী সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সাদ্দাম যখন কারাগারের ভেতরে মুক্তির প্রহর গুনছিলেন, তখন বাইরে তাঁর পুরো পৃথিবীই শেষ হয়ে গেছে। পিতৃত্বের স্বাদ যেমন তিনি পাননি, তেমনি জীবনের শেষ বিদায়বেলায় স্ত্রী-সন্তানকে একবার দেখার সুযোগটুকুও দেয়নি লোহার শিকল আর প্রশাসনিক জটিলতা।
সাদ্দামের স্ত্রী ও সন্তানের এই করুণ মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনা নিয়ে বইছে সমালোচনার ঝড়। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—অপরাধের বিচার কি মানবিকতাকে ধুলোয় মিশিয়ে দেবে? একজন শোকাতুর পিতাকে কি শেষবারের মতো তাঁর সন্তানের মুখ দেখার অধিকারটুকু দেওয়া যেত না?
কারাগারের চার দেয়ালে আজ সাদ্দাম শুধু একজন বন্দি নন, তিনি এক নিঃস্ব ও শোকস্তব্ধ মানুষ। যে সন্তানের মুখ দেখার স্বপ্ন নিয়ে তিনি প্রতিদিন জেলের দেয়ালের দিকে তাকিয়ে থাকতেন, সেই স্বপ্ন আজ চিরতরে কবরে চলে গেছে। সমাজের কাছে সাদ্দামের এই নির্বাক চাহনি আজ যেন একটাই আরজি রেখে যাচ্ছে—“আমাদের ক্ষমা করে দিয়েন সাদ্দাম।”

