ইউক্রেনে রুশ বাহিনীর রাতভর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। এতে দেশটির জ্বালানি অবকাঠামো, বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা এবং একটি যাত্রীবাহী ট্রেন গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ। যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে দুই পক্ষের মধ্যে সরাসরি আলোচনার কয়েক দিনের মধ্যেই এই প্রাণঘাতী হামলা চালানো হলো।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) ইউক্রেনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় খারকিভ অঞ্চলে প্রায় ২০০ যাত্রী বহনকারী একটি ট্রেনের বগিতে রুশ ড্রোন আঘাত হানে। ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া স্বিরিদেঙ্কো জানান, ওই হামলায় অন্তত পাঁচজন যাত্রী নিহত হয়েছেন। হামলার পর ট্রেনের একটি বগিতে আগুন ধরে যায় এবং যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন,
‘একটি যাত্রীবাহী ট্রেনের বগিতে বেসামরিক মানুষ হত্যা করার কোনো সামরিক যুক্তি নেই। এমন কোনো যুক্তি থাকতে পারে না।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন ট্রেনের বগি দেখা যায়। জরুরি উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো জানায়, পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী ওডেসাতেও রুশ বাহিনীর ব্যাপক ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। আঞ্চলিক কর্মকর্তারা জানান, শহরটিতে ৫০টির বেশি ড্রোনের আঘাতে তিনজন নিহত এবং ৩০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। কৃষ্ণসাগর তীরবর্তী এই শহরটি ইউক্রেনের রপ্তানি কার্যক্রমের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এটি নিয়মিতভাবে রুশ হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে গত সপ্তাহে রুশ-ইউক্রেনীয় প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হলেও, এর পরও ইউক্রেনের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোয় প্রাণঘাতী হামলা অব্যাহত রয়েছে। তীব্র শীতের মধ্যে এসব হামলার ফলে বহু অঞ্চলে বিদ্যুৎ, আলো ও তাপ সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং লাখো ইউক্রেনীয় নাগরিক চরম দুর্ভোগে পড়ছেন।
জেলেনস্কি তার টেলিগ্রাম বার্তায় লেখেন, ‘রাশিয়ার প্রতিটি আঘাত চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে ধ্বংস করছে এবং যুদ্ধ শেষ করতে যারা সহায়তা করছে, তাদের প্রচেষ্টাকেও দুর্বল করে দিচ্ছে।’
ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, রাতভর রুশ বাহিনী ১৬৫টি আক্রমণাত্মক ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। একই সঙ্গে পশ্চিমাঞ্চলীয় লভিভ অঞ্চলে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো স্থাপনায় আঘাত হানার বিষয়টিও নিশ্চিত করা হয়েছে।
অন্যদিকে যুদ্ধের ময়দানে ধীরে ধীরে অগ্রসর হচ্ছে রুশ বাহিনী। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার দাবি করেছে, তারা জাপোরিঝঝিয়া ও খারকিভ অঞ্চলে আরও দুটি গ্রাম দখল করেছে। তবে এই দাবির বিষয়ে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রায় চার বছর ধরে চলমান এই যুদ্ধে সাম্প্রতিক হামলাগুলো ইউক্রেনে মানবিক সংকট আরও গভীর করছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।

