মনির হোসেন, যশোর প্রতিনিধি :
য়শোরের শার্শা উপজেলা-তে পল্লী চিকিৎসক আল-আমিনের হত্যাকাণ্ডের পাঁচ দিন পর প্রধান আসামি গাজী মশিউর রহমান-কে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৬।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে গাজীপুর জেলা থেকে তাকে আটক করা হয়। র্যাব জানায়, প্রযুক্তিগত নজরদারি ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে মশিউরকে শনাক্ত করা হয় এবং বিশেষ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
রক্তাক্ত সেই রাত নিহত আল-আমিন (৩০) উপজেলার গাতিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি রাত প্রায় ৮টার দিকে বাড়ির অদূরে দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন তিনি। স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এই হত্যাকাণ্ডে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নিহতের পরিবার পরদিন শার্শা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তথ্যপ্রযুক্তির জালে ধরা তদন্ত সূত্র জানায়, ঘটনার পর থেকেই সন্দেহভাজনদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হয়। মোবাইল ট্র্যাকিং, কললিস্ট বিশ্লেষণ ও গোপন নজরদারির মাধ্যমে হত্যার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে মশিউরের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হয়। এরপর র্যাবের আভিযানিক দল তাকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃত মশিউর রহমান নড়াইল জেলার লোহাগড়া থানার ধলাইতলা গ্রামের মৃত মশিউর রহমানের ছেলে।
‘সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার’ শার্শা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মারুফ হোসেন জানিয়েছেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তি হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। এছাড়া অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
রহস্যের জট এখনও কাটেনি তবে হত্যার পেছনের উদ্দেশ্য—পূর্ব শত্রুতা, আর্থিক বিরোধ নাকি অন্য কোনো কারণ—এখনো স্পষ্ট নয়। তদন্তকারীরা বলছেন, জিজ্ঞাসাবাদ ও আরও তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে ঘটনার পূর্ণ চিত্র উন্মোচন করা হবে।
স্থানীয়রা দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পুরো গাতিপাড়া গ্রামে শোক ও ক্ষোভের ছায়া নেমে এসেছে।

