Bangla FM
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • বিশ্ব
  • সারাদেশ
  • বিনোদন
  • খেলাধুলা
  • কলাম
  • ভিডিও
  • অর্থনীতি
  • ক্যাম্পাস
  • আইন ও আদালত
  • প্রবাস
  • বিজ্ঞান প্রযুক্তি
  • মতামত
  • লাইফস্টাইল
No Result
View All Result
Bangla FM

আধুনিক শিল্পযাত্রার অন্যতম পথিকৃৎ ঋত্বিক ঘটক

Bangla FM OnlinebyBangla FM Online
১১:৪২ pm ০৬, ফেব্রুয়ারী ২০২৬
in Semi Lead News, কলাম
A A
0
সৈয়দ আমিরুজ্জামান
বাংলা চলচ্চিত্র জগতে এবং জীবনমুখী সাহিত্য ধারায় ঋত্বিক ঘটক এক বিশিষ্ট শিল্পী। তাঁর কর্ম ও সৃজনক্ষেত্রের পরিধি কেবল চিত্র পরিচালনা ও কথাসাহিত্যে নয়, ভারতের পুনা ফিল্ম ইনস্টিটিউটে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেছেন দীর্ঘকাল। প্রথম জীবনে কবি ও গল্পকার তারপর নাট্যকার, নাট্যপরিচালক, অবশেষে চলচ্চিত্রকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন। ৬ ফেব্রুয়ারি তাঁর ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী।
ভাবো, ভাবো, ভাবা প্র্যাক্টিস করো’- কথাটি তিনি প্রায়শই বলতেন। শুধু কি বলতেন? না। কাজের মাধ্যমে দেখাতেনও। সেই কাজ নাটক, সেই কাজ চলচ্চিত্র। নাটক আর চলচ্চিত্রের গল্পে, চিত্রপটে তিনি মানুষকে ভাবাতেন। ভাবতে শেখাতেন। তার গভীর জীবন দর্শন ছড়িয়ে দিতেন দর্শকদের মাঝে। দর্শক সেই দর্শনে ডুবে যেতেন, সমালোচকরা বিশ্লেষণে মগ্ন হতেন।
ঋত্বিক ঘটক বলেছেন, “রাজনীতি জীবনের একটা বড় অংশ। রাজনীতি ছাড়া কিছুই হয় না, প্রত্যেকেই রাজনীতি করে, যে করেনা বলে সেও করে। অ্যাপলিটিক্যাল বলে কোন কথা হয় না।”
সত্যজিৎ রায়, মৃণাল সেনদের সঙ্গে একই কাতারে তার নাম উচ্চারিত হয়। বাংলা ভাষার চলচ্চিত্রে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায় হয়ে আছেন। মাত্র ৭টি চলচ্চিত্র নির্মাণ করে তিনি যে অসামান্য খ্যাতি কুড়িয়েছেন, তা অবিশ্বাস্যও বটে!
তিনি ঋত্বিক কুমার ঘটক। সংক্ষেপে ঋত্বিক ঘটক নামে সবার কাছে পরিচিত। উপমহাদেশের অন্যতম সেরা নির্মাতা হিসেবে তাকে বিবেচনা করা হয়। স্রোতে গা না ভাসিয়ে তিনি ছুটেছিলেন বিপরীতে। বিকল্প ধারার চলচ্চিত্রকে দাঁড় করানোর ক্ষেত্রে তার অসামান্য অবদান এখনো শ্রদ্ধাভরে স্মরণীয়।
সৃষ্টিতে উল্লাস খুঁজে পাওয়া এই ক্ষ্যাপা নির্মাতার চলে যাওয়ার দিন আজ। ১৯৭৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ঋত্বিক ঘটক না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন। প্রয়াণ দিনে খ্যাতিমান এই চলচ্চিত্রকারের প্রতি শ্রদ্ধা।
ঋত্বিক ঘটকের জন্ম ১৯২৫ সালের ৪ নভেম্বর বাংলাদেশের ঢাকায়। তখন অবশ্য বাংলাদেশ ছিল না। ছিল ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি। রাজশাহীর মিয়াঁপাড়ায় তিনি বেড়ে উঠেছিলেন। পড়াশোনা করেছেন রাজশাহী কলেজ ও বহরমপুর কৃষ্ণনাথ কলেজে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শেষ করেন এমএ।
অত্যন্ত শিক্ষিত এবং সংস্কৃতি সমৃদ্ধ পরিবারে ঋত্বিক ঘটকের জন্ম। তার বাবা ছিলেন একজন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট। তবে তিনি কবিতা ও নাটক লিখতেন। এছাড়া ঋত্বিকের বড় ভাই মনীশ ঘটক ছিলেন খ্যাতিমান লেখক। শিল্প-সাহিত্যের ছোঁয়া তাই ছোট বেলাতেই পেয়েছেন ঋত্বিক ঘটক। তিনি যত বড় হয়েছেন, তত উপলব্ধি করেছেন শিল্প-সংস্কৃতির গুরুত্ব। এবং নিজেকেও যুক্ত করেছেন এই সৃষ্টিময় ভুবনে।
১৯৫৮ সালে ঋত্বিক ঘটক কৃষ্ণনাথ কলেজ থেকে গ্রাজুয়েশন কোর্স সম্পন্ন করে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে এমএ ক্লাসে ভর্তি হন। কিন্তু এমএ কোর্স শেষ না করেই ঋত্বিক বিশ্ববিদ্যালয় ত্যাগ করেন। কারণ তার কাছে ডিগ্রির চেয়ে লেখক হওয়া বেশি জরুরি ছিল।
দেশভাগ, ভাষা আন্দোলন ইত্যাদি নিয়ে তখন পুরো ভারতবর্ষে বিরাজ করছিল অস্থির পরিবেশ। দেশ ও মানুষের সেই প্রেক্ষাপট কলমের আঁচড়ে তুলে ধরতেন ঋত্বিক ঘটক। তৎকালীন বিভিন্ন পত্রিকায় লিখেছেন তিনি।
ঋত্বিক ঘটক ছিলেন বামপন্থী রাজনীতির অনুরাগী। তার চিন্তা-ধারাও ছিল স্রোতের প্রতিকূলে। পত্র-পত্রিকায় লেখার পাশাপাশি নাটকে যুক্ত হন ঋত্বিক ঘটক। পঞ্চাশের দশকে তিনি নাটক লিখেছেন, পরিচালনা করেছেন এবং তাতে অভিনয়ও করেছেন। তার রচিত ও নির্দেশিত নাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে- চন্দ্রগুপ্ত, অচলায়তন, কলঙ্ক, দলিল, কত ধানে কত চাল, অফিসার, ইস্পাত, জাগরণ, জ্বলন্ত, জ্বালা, ডাকঘর নবান্ন, ঢেউ, সাঁকো, হযবরল, বিসর্জন ইত্যাদি।
মূলত ছাত্রজীবনেই সংস্কৃতি জগতে পুরোপুরিভাবে জড়িয়ে পড়েন ঋত্বিক ঘটক। দেশভাগের কারণে কলকাতায় চলে যাওয়ার বিষাদময় ঘটনা তাকে প্রবলভাবে আঘাত করেছে। যার ফলে তিনি তার সৃষ্টিকর্মে এই বিষয়টি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বহুবার তুলে ধরেছেন।
চলচ্চিত্রে তার অভিষেক ঘটে ১৯৫১ সালে। নিমাই ঘোষ পরিচালিত ‘ছিন্নমূল’ চলচ্চিত্র দিয়ে তিনি অভিনেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। একই চলচ্চিত্রে সহকারী পরিচালক হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি।
এক বছর পর অর্থাৎ ১৯৫২ সালে ঋত্বিক ঘটক পূর্ণাঙ্গ পরিচালক হিসেবে কাজ শুরু করেন। তার নির্মিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘নাগরিক’। তবে চলচ্চিত্রটি মুক্তি পেতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। জানা যায়, ১৯৭৭ সালে এসে ‘নাগরিক’ মুক্তির আলো দেখেছিল।
ছয় বছর সময় নিয়ে ঋত্বিক ঘটক উপহার দেন তার দ্বিতীয় ও তৃতীয় চলচ্চিত্র ‘অযান্ত্রিক’ ও ‘বাড়ি থেকে পালিয়ে’। সমালোচক মহলে চলচ্চিত্র দুটি ব্যাপক প্রশংসিত হয়। যদিও ব্যবসায়িকভাবে তেমন সুবিধা করতে পারেনি এগুলো। তবে চলচ্চিত্র দুটির গল্প, নির্মাণশৈলি ঋত্বিক ঘটককে আলাদা পরিচয় এনে দেয়।
ষাটের দশকে ঋত্বিক ঘটক তিনটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। এগুলো হচ্ছে ‘মেঘে ঢাকা তারা’, ‘কোমল গান্ধার’ ও ‘সুবর্ণরেখা’। এই তিনটি চলচ্চিত্রকে ঋত্বিক ঘটকের সেরা নির্মাণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এগুলোকে একসঙ্গে ঋত্বিক ঘটক ট্রিলজি হিসেবেও অভিহিত করা হয়। তিনটি চলচ্চিত্রে তিনি কলকাতার তৎকালীন রুঢ় বাস্তবতার চিত্র তুলে ধরেছিলেন। যার ফলে ব্যবসায়িক সাফল্য না পেলেও ব্যাপকভাবে আলোচিত ও প্রশংসিত হয়েছিলেন ঋত্বিক ঘটক।
ব্যবসায়িকভাবে ব্যর্থ হওয়ার কারণে ষাটের দশকে ঋত্বিক ঘটক আর কোনো চলচ্চিত্র নির্মণ করতে পারেননি। সত্তরের দশকে তার ক্যারিয়ারে আসে নতুন মোড়। একজন প্রযোজক তার কাছে আসেন ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ উপন্যাস অবলম্বনে চলচ্চিত্র বানাতে। অদ্বৈত মল্লবর্মণ রচিত এই উপন্যাস ঘিরে একই নামে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন ঋত্বিক। ১৯৭৩ সালে মুক্তি পায় এটি। আর মুক্তির পর বাংলা চলচ্চিত্রের ধারায় নতুন একটি পথের সূচনা হয়। যে পথ ধরে পরবর্তী সময়ে অনেকেই হেঁটেছেন। এক জরিপে ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ চলচ্চিত্রটি বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সর্বকালের সেরা চলচ্চিত্রের স্বীকৃতি পায়।
ঋত্বিক ঘটক পরিচালিত শেষ চলচ্চিত্র ‘যুক্তি তক্কো আর গপ্পো’। এটি মুক্তি পায় ১৯৭৭ সালে। এই চলচ্চিত্রে ঋত্বিক ঘটকের ব্যক্তি জীবনের অনেক কিছুই উঠে এসেছে। কারণ এটা তার আত্মজীবনীমূলক চলচ্চিত্র। দেশভাগ, রাজনৈতিক পরিস্থিতি, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, নকশাল বাড়ি আন্দোলন এই সব কিছু তিনি তুলে ধরেন এখানে।
চলচ্চিত্র ঋত্বিক ঘটকের নেশা, ধ্যান-জ্ঞান সবই ছিল। তবে এই মাধ্যমকে তিনি প্রতিবাদের ভাষা হিসেবেও ব্যবহার করেছেন। তিনি চলচ্চিত্রের মাধ্যমে সমাজের অন্যায়-অবিচার ও বৈষম্য নিয়ে জোরালো প্রতিবাদ করেছেন। উঁচু, সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম নেওয়া ঋত্বিক সারাজীবন সমাজের নিচু শ্রেণির মানুষের অধিকার নিয়ে লড়েছেন।
ষাটের দশকে ঋত্বিক ঘটক কিছু দিনের জন্য পুনেতে বসবাস করেছেন। সে সময় তিনি ভারতীয় চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউটে অতিথি অধ্যাপক হিসেবে শিক্ষকতা করেন। পরবর্তীতে তিনি সেখানে ভাইস-প্রিন্সিপাল হিসেবে অধিষ্ঠিত হন। তার ছাত্রদের মধ্যে রয়েছেন মনি কাল, কুমার সাহানি, আদুর গোপালকৃষ্ণ, সাঈদ আখতার মির্জা, জন আব্রাহাম, সুভাষ ঘাই ও বিধু বিনোদ চোপড়ার মতো খ্যাতিমান চলচ্চিত্র নির্মাতারা।
বাংলা ভাষার চলচ্চিত্রকে নতুন পথ দেখানো ঋত্বিক ঘটককে স্বীকৃতি দিতে ভুল করেনি ভারত সরকার। ১৯৭০ সালেই তাকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করা হয়। একই বছর তিনি ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ স্বর্ণপদক লাভ করেন। ১৯৭৪ সালে ‘যুক্তি তক্কো আর গপ্পো’ চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ্য গল্পকার হিসেবে ঋত্বিক ঘটক জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে রজত কমল পুরস্কার অর্জন করেন।
ব্যক্তিজীবনে ভীষণ উদাসীন আর খামখেয়ালী ছিলেন ঋত্বিক ঘটক। অতিরিক্ত মদ্যপান করতেন তিনি। যা তার শরীর নিতে পারেনি। এমনকি অনিয়মের সেই জীবন পছন্দ করতেন না তার স্ত্রী সুরমাও। যার ফলে মৃত্যুর সময় অন্য আপনজন তো পরের কথা, স্ত্রীকেও পাশে পাননি ঋত্বিক। তার ওই সময়কার দুর্বিসহ জীবনের সাক্ষী ছিলেন আরেক বিখ্যাত চলচ্চিত্রকার মৃণাল সেন। তিনি বলেছিলেন, ‘শেষ ক-টা বছর ঋত্বিকের বেঁচে থাকাটাই একটা বিরাট অঘটন।’
১৯৭৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি মাত্র ৫০ বছর বয়সে চলে যান ঋত্বিক ঘটক। রেখে যান অসামান্য এক শিল্প অধ্যায়। রেখে যান কিছু অসম্পূর্ণ কাজও। স্রোতের বিপরীতে ছুটে ঋত্বিক চলে গেলেও তার সৃষ্টিকর্ম এখনো উজ্জ্বলভাবে স্মরণীয়। উপমহাদেশের চলচ্চিত্র জগতে তার নির্মাণ গবেষণার এক সমৃদ্ধ ক্ষেত্র।
ঋত্বিক ঘটক নির্মিত চলচ্চিত্র
• নাগরিক (১৯৫২) (মুক্তি: ১৯৭৭, ২০শে সেপ্টেম্বর),
• অযান্ত্রিক (১৯৫৭), • বাড়ি থেকে পালিয়ে (১৯৫৮),
• মেঘে ঢাকা তারা (১৯৬০),• কোমল গান্ধার (১৯৬১), • সুবর্ণরেখা (১৯৬১),• তিতাস একটি নদীর নাম (১৯৭৩),• যুক্তি তক্কো গপ্পো (১৯৭৪)।
ঋত্বিকের চিত্রনাট্য:
• মুসাফির (১৯৫৭),• মধুমতী (১৯৫৮),• স্বরলিপি (১৯৬০),• কুমারী মন (১৯৬২),• দ্বিপের নাম টিয়া রঙ (১৯৬৩),• রাজকন্যা (১৯৬৫)।
অভিনেতা হিসেবে কাজ করা চলচ্চিত্র সমূহ:
• তথাপি (১৯৫০),• ছিন্নমূল (১৯৫১),• কুমারী মন (১৯৬২),• সুবর্ন-রেখা (১৯৬২),• তিতাস একটি নদীর নাম (১৯৭৩),• যুক্তি,তক্কো,আর গপ্পো (১৯৭৪)।
ডকুমেন্টারী:
• আদিবাসীওন কা জীবন স্রোত (১৯৫৫) (হিন্দি),• বিহার কে দর্শনীয়া স্থান (১৯৫৫) (হিন্দি),• সায়েন্টিস অফ টুমরো (১৯৬৭),• ইয়ে কৌন (১৯৭০) (হিন্দি),• আমার লেলিন (১৯৭০),• পুরুলিয়ার ছাউ (১৯৭০)।
শর্ট ফিল্ম:
• ফিয়ার (১৯৬৫) (হিন্দি),• রেন্ডিজভোয়াস (১৯৬৫) (হিন্দি),• সিভিল ডিফেন্স (১৯৬৫),• দুর্বার গতি পদ্মা (১৯৭১)।
ঋত্বিকের অসমাপ্ত কাজ:
ফিচার:
• অরূপকথা/বেদেনী (১৯৫০-৫৩),• কত অজানারে (১৯৫৯),• বগলার বাংলাদর্শন (১৯৬৪),• রঙের গোলাম (১৯৬৮)।
ডকুমেন্টারী:
• উস্তাদ আলাউদ্দিন খান (১৯৬৩),• ইন্দিরা গান্ধী (১৯৭২),• রামকিঙ্করঃ এ পারসোনালিটি স্টাডী (১৯৭৫)।
মঞ্চ নাটক:
• চন্দ্রগুপ্ত (অভিনেতা),• অচলায়তন (নির্দেশক ও অভিনেতা),• কালো সায়র (নির্দেশক ও অভিনেতা),• কলঙ্ক (অভিনেতা),• দলিল (নির্দেশক ও অভিনেতা),• কত ধানে কত চাল (নির্দেশক ও অভিনেতা),• অফিসার (অভিনেতা),• ইস্পাত (মঞ্চে প্রদর্শিত হয়নি),• গ্যালিলিও চরিত,• জাগরণ (অভিনেতা),• জলন্ত (রচনা),• জ্বালা (রচনা),• ডাকঘর (নির্দেশনা),• ঢেউ (নির্দেশনা),• ডেকি সর্গে গেলেও ধান বানে(রচনা),• নবান্ন (নির্দেশনা),• নিলদর্পন (অভিনেতা),• নিচের মহল (মঞ্চে প্রদর্শিত হয়নি),• পরিত্রাণ (অভিনয়),• ফাল্গুনি (অভিনয়),• বিদ্যাসাগর (নির্দেশনা),• বিসর্জন (নির্দেশনা),• ম্যাকবেথ (অভিনেতা),• রাজা (নির্দেশনা)
• সাঁকো (অভিনেতা),• সেই মেয়ে (নির্দেশনা),• হযবরল (নির্দেশনা)।
পুরস্কার ও সম্মাননা
১৯৭০: ভারত সরকার তাকে শিল্পকলায় পদ্মশ্রী উপাধিতে ভূষিত করেন।
১৯৫৭: মুসাফির চলচ্চিত্রের জন্য ভারতের ৫ম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে তৃতীয় শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রের জন্য মেধার ছাড়পত্র লাভ করেন।
১৯৫৯: মধুমতী চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ কাহিনীকার বিভাগে ৬ষ্ঠ ফিল্মফেয়ার পুরস্কার-এ মনোনয়ন লাভ করেন।
১৯৭০: হীরের প্রজাপতি চলচ্চিত্রের জন্য ১৬তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ শিশুতোষ চলচ্চিত্র পুরস্কার (প্রধানমন্ত্রীর স্বর্ণপদক) লাভ করেন।
১৯৭৪: যুক্তি তক্কো আর গপ্পো চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ কাহিনীকার বিভাগে ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।
১৯৭৪: তিতাস একটি নদীর নাম চলচ্চিত্রের জন্য সেরা পরিচালক বিভাগে বাচসাস পুরস্কার লাভ করেন।
মহান ও কীর্তিমান মানুষদের নিয়ে সব সময়ই লেখা যায় আমরা এটা বিশ্বাস করি।
পরিশেষে, সমাজতন্ত্র অভিমুখী অসাম্প্রদায়িক জনগণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রত্যয়ে সমতা-ন্যায্যতার প্রশ্নে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার প্রয়োজনেই বিশ্বজনীন মহান এই গুণীর সাহিত্য, জীবন সংগ্রাম, কীর্তি, ইতিহাস, তত্ত্ব ও অনুশীলন সম্পর্কে পাঠ প্রাসঙ্গিক ও জরুরী। রেড সেলুট বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তী ঋত্বিক ঘটক!
ঋত্বিক ঘটককে উৎসর্গ করে লেখা কবিতা —
ঋত্বিক ঘটক : স্রোতের বিপরীতে আগুনের মানুষ
— সৈয়দ আমিরুজ্জামান
ভাবো—
ভাবো মানুষ, ভাবো ইতিহাসের ক্ষত,
ভাবো নদীর কান্না, দেশভাগের শত শত ক্ষত।
ভাবো ছিন্নমূল জন, ভাঙা ভিটে, পোড়া ঘর,
ভাবো শিল্প কীভাবে হয় প্রতিবাদের স্বর।
ভাবতে শেখাও—
এই ছিল তাঁর আজীবন অনুশীলন,
ভাবনা ছাড়া শিল্প তাঁর কাছে ছিল না পূর্ণতন।
ঋত্বিক নামের আগুন মানুষ, ক্ষ্যাপা এক স্রষ্টা,
স্রোতের বিপরীতে হাঁটা—ছিল তাঁর একমাত্র রাস্তাটা।
ঢাকার আকাশে জন্ম তাঁর, রাজশাহীর ধুলোপথ,
শৈশব থেকেই কানে বাজে মানুষের দীর্ঘশ্বাস-শব্দ।
বাবার কলমে নাটক, মায়ের চোখে সংস্কার,
ভাই মনীশের লেখায় পেয়েছিলেন প্রতিবাদের ভাষার।
ডিগ্রি নয়,
ডিগ্রির চেয়ে জরুরি ছিল মানুষ হওয়া,
কলম হাতে নিয়ে ইতিহাসের মুখোমুখি যাওয়া।
দেশভাগ এল—
ছিন্ন হলো নদী, ছিন্ন হলো মন,
কলকাতার ভিড়ে শুরু হলো নির্বাসনের ক্ষণ।
নাটকের মঞ্চে দাঁড়িয়ে চিৎকার করলেন তিনি,
“কত ধানে কত চাল”—এই প্রশ্ন আজও অম্লান বাণী।
নবান্নের ক্ষুধা, ইস্পাতের শ্রম,
অচলায়তনের ভাঙন—সবই তাঁর কর্ম।
রাজনীতি ছাড়া কিছু নেই—
এই সত্য তিনি উচ্চারণ করলেন বুক ফুলিয়ে,
যে বলে সে নিরপেক্ষ, সেও রাজনীতির স্রোতে ভেসে যায় নির্লজ্জ হয়ে।
তিনি জানতেন—
শিল্প মানে বিলাস নয়,
শিল্প মানে ক্ষুধার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো দায়।
চলচ্চিত্রে এলেন—
ছিন্নমূলের ভিড়ে এক নামহীন মানুষ,
ক্যামেরা কাঁধে নিয়ে খুঁজলেন শিকড়ের সুস্পষ্ট সূত্র।
নাগরিক এল—
কিন্তু নাগরিক সমাজ তাঁকে চিনল না তখন,
সময় লাগে সত্যের আলো ছড়াতে—এই ছিল বিধান।
অযান্ত্রিকের যন্ত্রও কাঁদে মানুষের মতো,
বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়া ছেলেটি আজও প্রতীকত।
আর মেঘে ঢাকা তারা—
ওই এক চিৎকার,
“দাদা, আমি বাঁচতে চাই”—আজও বুক ফাটায় বারবার।
কোমল গান্ধারে সুর ভাঙে, ভাঙে দেশ,
সুবর্ণরেখা আঁকে সীমান্ত—মানুষ হারায় বেশ।
এই তিন ছবি—
শুধু সিনেমা নয়,
এগুলো দেশভাগের রক্তাক্ত ইতিহাসের বহমান নদীস্রোত বয়।
ব্যবসা তাঁকে গ্রহণ করেনি—
কিন্তু ইতিহাস তাঁকে গ্রহণ করেছে মাথা নত করে,
কারণ তিনি আপস করেননি এক মুহূর্তের তরে।
তিতাস এল—
নদী হয়ে এল, জনপদ হয়ে এল,
মালোর কান্না নিয়ে ইতিহাসের বুকে খেল।
এক নদীর মৃত্যু মানে—
এক সভ্যতার পতন,
ঋত্বিক জানতেন এই সত্য, তাই তুলেছিলেন চিরন্তন গান।
যুক্তি, তক্কো আর গপ্পো—
শেষ আত্মকথা, শেষ যুদ্ধ,
নিজেকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে বললেন নির্মম সত্য।
দেশভাগ, নকশাল, মুক্তিযুদ্ধের ছায়া,
সব মিলিয়ে এই ছবি—এক জ্বলন্ত দাহ্য কাব্যকথা।
পুনেতে শিক্ষক—
শুধু পাঠ নয়, শিখিয়েছেন প্রশ্ন করতে,
শিখিয়েছেন কীভাবে ক্যামেরা দিয়ে সত্যকে ছুঁতে।
তাঁর ছাত্রেরা আজ কিংবদন্তি নাম,
কিন্তু গুরু ছিলেন একাই—ঝঞ্ঝার মতো বেপরোয়া দামাল।
পদ্মশ্রী এল—
কিন্তু পেট ভরেনি,
সম্মান পেলেও জীবন তাঁকে আর কিছু দেয়নি।
মদে ডুবেছিলেন—
হ্যাঁ, সত্য এড়াবো না আমরা,
কারণ সমাজ একা ছেড়ে দিলে আগুন নিজেকেই পোড়ায় বারবার।
স্ত্রীও পাশে ছিলেন না শেষ ক্ষণে,
বন্ধু মৃণাল বলেছিলেন—
“ওর বেঁচে থাকাটাই ছিল এক অঘটন, এক বিস্ময়ধর্মী ঘটনা।”
পঞ্চাশে থেমে গেল হৃদস্পন্দন,
কিন্তু থামেনি তাঁর শিল্পের কম্পন।
আজও গবেষণায়, আজও সংগ্রামে,
ঋত্বিক ঘটক বেঁচে আছেন মানুষের নামের গানে।
তিনি শিখিয়েছেন—
শিল্প মানে দায়,
শিল্প মানে নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সাহসী প্রণয়।
শিল্প মানে আপস ভাঙা,
শিল্প মানে ইতিহাসকে প্রশ্ন করা।
তাই আজ—
এই বিভক্ত সময়ের বাংলাদেশে,
এই বৈষম্যের অন্ধকারে,
ঋত্বিক ঘটকের পাঠ আরও জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে আমাদের লড়াইয়ের চিহ্নে।
রেড সেলুট, ঋত্বিক—
তোমার ক্যামেরা আজও প্রশ্ন ছুড়ে দেয়,
তোমার আগুন আজও আমাদের বিবেক পোড়ায়, জাগিয়ে দেয়।
স্রোতের বিপরীতে তুমি ছিলে একা,
কিন্তু তোমার একাকীত্বই আজ আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তির ভাষা।
সৈয়দ আমিরুজ্জামান
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক, সাংবাদিক ও কলামিস্ট;
বিশেষ প্রতিনিধি, সাপ্তাহিক নতুনকথা;
সম্পাদক, আরপি নিউজ;
কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, জাতীয় কৃষক সমিতি;
সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, মৌলভীবাজার জেলা;
‘৯০-এর মহান গণঅভ্যুত্থানের সংগঠক ও সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রী।
সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, বাংলাদেশ খেতমজুর ইউনিয়ন।
সাধারণ সম্পাদক, মাগুরছড়ার গ্যাস সম্পদ ও পরিবেশ ধ্বংসের ক্ষতিপূরণ আদায় জাতীয় কমিটি।
প্রাক্তন সভাপতি, বাংলাদেশ আইন ছাত্র ফেডারেশন।
E-mail : syedzaman.62@gmail.com
ShareTweetPin

সর্বশেষ সংবাদ

  • লীগ অ্যাক্টিভ হয়েছে, নির্বাচন বানচালের চেষ্টা চলছে: ইনকিলাব মঞ্চ
  • কক্সবাজারে পুড়ানো হলো জব্দ ৫০০ মিটার কারেন্ট জাল
  • আধুনিক শিল্পযাত্রার অন্যতম পথিকৃৎ ঋত্বিক ঘটক
  • নরসিংদী-১ আসনে ইব্রাহিম ভুঁইয়ার সমর্থনে চিনিশপুর ইউনিয়নে জনসভা
  • জামালপুরসহ ১৪ আসনে বিজিবি ৯০০ জন

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুর ইসলাম (রাশেদ মানিক)
নির্বাহী সম্পাদক: মুহাম্মদ আসাদুল্লাহ

বাংলা এফ এম , বাসা-১৬৪/১, রাস্তা-৩, মোহাম্মদিয়া হাউজিং লিমিটেড, মোহাম্মদপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ

ফোন:  +৮৮ ০১৯১৩-৪০৯৬১৬
ইমেইল: banglafm@bangla.fm

  • Disclaimer
  • Privacy
  • Advertisement
  • Contact us

© ২০২৬ বাংলা এফ এম

Welcome Back!

Login to your account below

Forgotten Password?

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.

Log In

Add New Playlist

No Result
View All Result
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • বিশ্ব
  • সারাদেশ
  • বিনোদন
  • খেলাধুলা
  • প্রবাস
  • ভিডিও
  • কলাম
  • অর্থনীতি
  • লাইফস্টাইল
  • ক্যাম্পাস
  • আইন ও আদালত
  • চাকুরি
  • অপরাধ
  • বিজ্ঞান প্রযুক্তি
  • ফটোগ্যালারি
  • ফিচার
  • মতামত
  • শিল্প-সাহিত্য
  • সম্পাদকীয়

© ২০২৬ বাংলা এফ এম