সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি :
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনে স্বাধীনতার পরে এই প্রথম বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন । এই আসন আওয়ামীলীগের দূর্গ হিসেবে পরিচিত ছিলো একটা সময় । যদিও অভ্যুত্থান পরবর্তীতে আওয়ামীলীগের রাজনীতি বাংলাদেশেনিষিদ্ধ রয়েছে। স্বাধীনতা পরবর্তীতে যত নির্বাচন হয়েছে এই আসনে বিএনপি মনোনীত কোন প্রার্থী বিজয়ী হতে পারে নাই ।
প্রথমবারের মতো নির্বাচিত হয়েছে বিএনপি মনোনীত কোন প্রার্থী। এম এ হান্নান নাসিরনগর উপজেলা বিএনপির বর্তমান সভাপতি। তিনি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান থেকে বিজয়ী হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেন। তিনি একটা সময় নাসিরনগর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া ছিলেন নাসিরনগর উপজেলা সদর সংলগ্ন গোকর্ণ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানও।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে বেসরকারি ফলাফলে তাকে বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। তার প্রাপ্ত ভোট ৬৮ হাজার ৪ শত ৯৪।তিনি একবার উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করে হেরে গিয়েছিলেন। চেয়ারম্যান থেকে এমপি নির্বাচিত হওয়ায় তিনি এখন সেখানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন।
বিএনপি নেতা এম এ হান্নানের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি অ্যাড. কামরুজ্জামান মামুন। তার প্রাপ্ত ভোট ৩৪ হাজার ৬ শত ৫২ ভোট। তিনি জেলা আইনজীবী সমিতিরও সভাপতি। তৃতীয় অবস্থানে আছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম। তার প্রাপ্ত ভোট ২২ হাজার ৪ শত ২৭। চতুর্থ অবস্থানে আছেন নাসিরনগর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি স্বতন্ত্র প্রার্থী ইকবাল চৌধুরী। তার প্রাপ্ত ভোট ১৬ হাজার ৭ শত ৯৩ ভোট। তিনি বুড়িশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের চারবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন। এবারে তিনি চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করে সংসদ সদস্য পদে নির্বাচন করেন।
বিজয়ী প্রার্থী এম এ হান্নান নাসিরনগর উপজেলার সর্বস্তরের জনগণকে আন্তরিক শুভেচ্ছা, অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানান। হিন্দু ভোটার ভাই-বোনদেরকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে বলেন আমাকে আপনারা সব সময় পাশে পাবেন।
তিনি নাসিরনগরের উন্নয়ন ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ প্রতিষ্ঠায় কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, সবার সমর্থন ও সহযোগিতায় আমরা এলাকার উন্নয়ন ও শান্তি বজায় রাখতে কাজ করব।

