অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে একমত হতে পারছে না সরকারি দল বিএনপি ও বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী। বিশেষ কমিটির বৈঠক শেষে জানা গেছে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোটের আইনি ভিত্তি বা ‘গণভোট অধ্যাদেশ’ সংসদে পাস না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। ফলে আগামী ১২ এপ্রিল এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, গণভোট ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়ে গেছে এবং এর কোনো ভবিষ্যৎ ব্যবহার নেই। তাই এটিকে আইনে পরিণত করার বা ‘রেটিফিকেশন’-এর প্রয়োজন নেই। তাঁর মতে, এটি বাতিল হলেও ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোট অবৈধ হবে না।
জামায়াত এমপি রফিকুল ইসলাম খান এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে বলেন, পুরো জাতি এই গণভোটে অংশ নিয়েছে। যদি এই অধ্যাদেশটি বাতিল করা হয়, তবে একই দিনে হওয়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। তাঁরা গণভোটের রায় কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন।
১৫টি অধ্যাদেশে ‘নোট অব ডিসেন্ট’:
অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে অন্তত ১৫টিতে জামায়াতে ইসলামী ভিন্নমত দিয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
১. বিচারপতি নিয়োগ ও বিচার বিভাগ: সুপ্রিম কোর্টের স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠা এবং বিচারপতি নিয়োগের জন্য গঠিত বাছাই কমিটি সংক্রান্ত অধ্যাদেশগুলো বিএনপি রহিত করতে চায় বলে দাবি করেছে জামায়াত।
২. কমিশনগুলোর স্বাধীনতা: মানবাধিকার কমিশন, পুলিশ কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং গুম-খুন প্রতিরোধ কমিশনের কাঠামোতে পরিবর্তন এনে এগুলোকে পুনরায় ‘দলীয়করণ’ করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছে বিরোধী দল।
৩. অন্যান্য সংস্কার: রবিবার আলোচিত ২২টি অধ্যাদেশের মধ্যে ১৫টিতেই জামায়াত নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে।
সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, অধ্যাদেশগুলো অনুমোদনের জন্য ১২ এপ্রিল পর্যন্ত সময় রয়েছে। বিশেষ কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠক শেষে জানানো হয়:
আগামী ২ এপ্রিল কমিটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন সংসদে পেশ করবে।
যে অধ্যাদেশগুলো ১২ এপ্রিলের মধ্যে অনুমোদিত হবে না, সেগুলো বাতিল হয়ে যাবে। তবে সরকার চাইলে পরবর্তীতে সেগুলো নতুন বিল আকারে আনতে পারবে।
বৈঠকে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, চিফ হুইপ নুরুল ইসলামসহ কমিটির অন্যান্য সদস্য এবং জামায়াতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সংসদীয় এই বিতর্ক এখন চূড়ান্ত আলোচনার জন্য মূল অধিবেশনে ওঠার অপেক্ষায়।

