টেকনাফের কাইয়ুখ খালী ঘাটে সেই রাত ছিল অন্ধকার ও নীরব, কিন্তু জেলেদের আনন্দ আর উত্তেজনা বাতাসে ভেসে আসছিল। বঙ্গোপসাগরের গভীর থেকে ফিরেছিল এক ফিশিং ট্রলার, যার জালে ধরা পড়েছিল বিপুল পরিমাণ লাল কোরাল মাছ—প্রায় ১,১০০টি, মোট ওজন প্রায় ১২০ মণ।
ট্রলারের মাঝিমাল্লারা—মোট ১৭ জন—দীর্ঘ সময়ের শ্রমের ফল পেয়েছে। মাঝে মাঝে আরাকান আর্মির ভয়ে সাগরে যেতে পারতেন না তারা, কিন্তু শনিবার আবার সাহস করে যাত্রা করেছিলেন, আর মঙ্গলবার সেই প্রচেষ্টা ফলপ্রসূ হলো। প্রতিটি মাছ ওজন পাঁচ থেকে ছয় কেজির মধ্যে, সুগন্ধি ও পুষ্টিগুণে ভরপুর।
ট্রলার ঘাটে পৌঁছালে শুরু হয় ক্রেতাদের মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ প্রতিযোগিতা। প্রথমে দাম পৌঁছালো ৪৫ লাখ টাকার কাছাকাছি, পরে মণপ্রতি ২৬ হাজার টাকায় সমঝোতা হয়। জেলেদের জন্য রাখা হয়েছে ১০০টি মাছ, বাকি প্রায় ১,০০০ মাছ বিক্রির অপেক্ষায়। এই বিপুল মাছের চালান সামুদ্রিক ঘাটতি কিছুটা পূরণ করবে এবং রমজান আসার আগে বাজারে চাহিদা মিটিয়ে দেবে।
টেকনাফ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা উমুল ফারা বেগম তাজকিরা বলেন, লাল কোরাল সুস্বাদু ও পুষ্টিতে সমৃদ্ধ, এতে প্রোটিন, ভিটামিন বি-১২, ভিটামিন ডি এবং ওমেগা-৩ আছে, যা হৃদয় ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার জন্য উপকারী। সাধারণত অক্টোবর থেকে মার্চের মধ্যে সেন্টমার্টিনের কাছে এই মাছের ঝাঁক দেখা যায়।
ঘাটে জেলেদের মুখে আনন্দ আর উত্তেজনার মিশ্রণ—সাগরের গভীর থেকে সংগ্রহ করা এই মাছ শুধু ব্যবসা নয়, তাদের জীবনের পরিশ্রমের গল্প, যা প্রতিটি কোরাল মাছের সঙ্গে ভেসে এসেছে।

