সৌদি আরবের মক্কা ও মদিনায় অবস্থিত ইসলামের দুই পবিত্রতম স্থান মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববীতে গত এক মাসে প্রায় ৬ কোটি ৯০ লাখ মুসল্লি ও দর্শনার্থী উপস্থিতি ঘটেছেন। হিজরি ১৪৪৭ সনের জুমাদিউস সানি মাসে এই সংখ্যাটি আগের মাসের তুলনায় প্রায় ২১ লাখ বেশি।
দুই পবিত্র মসজিদের প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, আধুনিক ব্যবস্থাপনা, উন্নত সুযোগ-সুবিধা ও ডিজিটাল সমন্বয়ের কারণে মুসল্লিদের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। একই মাসে মক্কার মসজিদুল হারামে প্রায় ৩ কোটি মুসল্লি ইবাদত ও জিয়ারত সম্পন্ন করেছেন। এর মধ্যে ৯৪,৭০০ জন মুসল্লি মাতাফ এলাকায় কাবা শরিফের সংলগ্ন স্থান থেকে নামাজ আদায়ের সুযোগ পেয়েছেন।
অন্যদিকে, মদিনার মসজিদে নববীতে প্রায় ২ কোটি ৩১ লাখ মানুষ ইবাদত ও জিয়ারতের উদ্দেশ্যে সমবেত হয়েছেন। এই সংখ্যা অন্তর্ভুক্ত করে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র রওজা মোবারক দর্শন করা ১৩ লাখ মুসল্লি এবং মহানবী (সা.) ও তাঁর দুই সাহাবির কবর জিয়ারত করা ২৩ লাখ মানুষ। এই বিশাল জনসংখ্যা সামাল দিতে সৌদি কর্তৃপক্ষ ডিজিটাল সেবা এবং সমন্বিত লজিস্টিক ব্যবস্থার ওপর জোর দিয়েছে।
সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধু জুমাদিউস সানি মাসেই দেশি ও বিদেশি মিলিয়ে ১ কোটি ১৯ লাখের বেশি মানুষ ওমরাহ পালন করেছেন। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক যাত্রীদের সংখ্যা ছিল ১৭ লাখের বেশি। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ভিসা প্রক্রিয়া সহজ হওয়ায় এবং উন্নত পরিবহন ব্যবস্থার কারণে বিদেশি যাত্রীদের আগমন অনেক দ্রুত ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হয়েছে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওমরাহ পালনকারীদের ক্রমবর্ধমান সংখ্যা ‘ভিশন ২০৩০’ লক্ষ্য অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যার উদ্দেশ্য হলো বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের জন্য হজ ও ওমরাহ প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল করা।
দুই পবিত্র মসজিদের তত্ত্বাবধানকারী কর্তৃপক্ষ এবং হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় যৌথভাবে সেবার মান বৃদ্ধিতে নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করছে। মুসল্লিরা যেন শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে ইবাদত সম্পন্ন করতে পারেন, তার জন্য সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াকে ডিজিটাল নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে।
সৌদি কর্তৃপক্ষের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় আবাসন, যাতায়াত এবং নিরাপত্তা সব ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে ওমরাহ যাত্রীদের সংখ্যা আরও বৃদ্ধির সম্ভাবনা বিবেচনা করে মক্কা ও মদিনার অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।
