জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্য ও গণভোট ইস্যুতে ‘না’-এর পক্ষে অবস্থানকে কেন্দ্র করে রংপুরে নতুন করে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। জুলাই বিপ্লবের যোদ্ধা, গণমাধ্যমকর্মী এবং বিএনপি-জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে তাঁর নেতিবাচক মন্তব্যের জেরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে স্থানীয় রাজনীতি।
সম্প্রতি বিভিন্ন সভা-সমাবেশ ও সাক্ষাৎকারে জিএম কাদের গণভোটকে ‘সংবিধানবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে জনগণকে ‘না’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে সুযোগ না দেওয়ায় অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা করেন এবং জুলাই আন্দোলনের সম্মুখসারির পক্ষগুলোর বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সাংবাদিকদের নিয়ে জিএম কাদেরের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের মাঝেও ক্ষোভ বিরাজ করছে। ভিডিও জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা তাঁর বক্তব্যকে উসকানিমূলক বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে, জুলাই বিপ্লবের সমন্বয়ক ও এনসিপি নেতারা জিএম কাদেরের চ্যালেঞ্জের জবাবে বলেন, আন্দোলনের সময় জাতীয় পার্টি বা তাদের অঙ্গসংগঠন ‘ছাত্রসমাজ’কে রাজপথে দেখা যায়নি। জুলাইযোদ্ধাদের অবদান নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি মূলত বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন।
দলটির স্থানীয় নেতারা জিএম কাদেরকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন এবং তাঁর বক্তব্যকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য হুমকি হিসেবে দেখছেন।: তারা অভিযোগ করেছে, জিএম কাদের প্রকাশ্যেই আওয়ামী লীগের ‘দোসর’ হিসেবে কাজ করছেন এবং ভারতীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নে লিপ্ত। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জিএম কাদেরের অহেতুক বক্তব্যে রংপুরের শান্ত পরিবেশ অশান্ত হচ্ছে এবং এর প্রতিবাদে তারা শিগগির সংবাদ সম্মেলন করবেন।
নগরীর রিকশাচালক ও সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের মতে, ৫ আগস্টের আগে যখন ছাত্রদল, ছাত্রশিবির ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে প্রাণ বাজি রেখে লড়াই করছিল, তখন জাতীয় পার্টির কোনো সক্রিয়তা দেখা যায়নি। এখন ভোটের আগে তাঁদের এই অবস্থানকে অনেকেই ‘আন্দোলনবিরোধী’ ও ‘বিভ্রান্তিকর’ বলে মনে করছেন।
জাতীয় পার্টির জেলা সদস্য সচিব আব্দুর রাজ্জাক তাঁর নেতার বক্তব্যকে যুক্তিযুক্ত বলে সমর্থন করলেও, একে কেন্দ্র করে সংঘাতের আশঙ্কা নাকচ করে দিয়েছেন। অন্যদিকে, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আব্দুল মজিদ জানিয়েছেন, গণভোট ঘিরে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা রোধে পুলিশ সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে এবং কাউকে আইন হাতে তুলে নিতে দেওয়া হবে না।

