রাজশাহী প্রতিনিধি :
রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) বর্তমান ভিসি অধ্যাপক ডাঃ মোঃ জাওয়াদুল হকের বিরুদ্ধে পদে পদে অনিয়ম-দুর্নীতি ও আওয়ামী দোসরের অভিযোগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে একের পর এক সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে। দুর্নীতির অভিযোগ উঠার পর সম্প্রতি তাকে অপসারণের দাবিতে মানববন্ধনসহ প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছে রাজশাহীর স্বেচ্ছাসেবি সংগঠন ‘জননেতা আতাউর রহমান স্মৃতি পরিষদ’। বর্তমান সরকার সমর্থিত চিকিৎসক সংগঠনের নেতারা বলছেন তিনি আর ভিসি থাকতে পারবেন না।
এরপরই পরবর্তী ভিসি হওয়ার জন্য দৌড়-ঝাঁপ শুরু করেছেন বিএনপি সমর্থিত চিকিৎসক সংগঠন ‘ডক্টর এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’ (ড্যাব), রাজশাহীর হাফডজন চিকিৎসক। তবে ভিসির দৌড়ে থাকা এসব চিকিৎসকের মধ্যে কারো প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা (অধ্যাপক ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা) না থাকা, কারো বিরুদ্ধে আবার আওয়ামী সম্পৃক্ততা ও দুর্নীতির অভিযোগও রয়েছে। এদের মধ্যে প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা না থাকা ও আওয়ামী সম্পৃক্ততার অভিযোগ থাকা বিতর্কিত চিকিৎসক অধ্যাপক ডাঃ মোঃ লতিফুর রহমান অপু এবং অধ্যাপক ডাঃ মোঃ রইস উদ্দীনের নামও আলোচনায় রয়েছে বলে জানা গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজশাহী ড্যাবের এক নেতা জানান, রাজশাহী ড্যাবের মধ্যে একাধিক গ্রুপিং, রাজশাহীতে ভিসি হওয়ার মত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ড্যাবের উল্লেখযোগ্য কোন চিকিৎসক না থাকায় এসব অভিযোগ উঠছে। বিভিন্নজন বিভিন্নভাবে নিজের মত গ্রুপ ধরে চেষ্টা করছেন।
তবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার ‘দুর্নীতিমুক্ত স্বাস্থ্য সেবা’ অঙ্গিকার বাস্তবায়নের জন্য একজন সৎ, যোগ্য ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিকে রামেবির ভিসি হিসেবে নিয়োগ দিবেন বলে আমি আশাবাদি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভিসি হওয়ার দৌড়ে থাকা রাজশাহী মেডিকেল কলেজের (রামেক) অ্যানেস্থেসিওলজি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ডাঃ মোঃ লতিফুর রহমান অপুর বিরুদ্ধে আওয়ামী সম্পৃক্ততা, সুবিধাভোগি ও ড্যাবের কর্মসূচিতে না থাকার অভিযোগ রয়েছে। তিনি রামেকে থাকাকালীন ড্যাবের সদস্য ছিলেন। তবে ২০১২ সালের দিকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজে যাওয়ার পর প্রায় ১০ বছর আওয়ামীলীগ সমর্থিত চিকিৎসক সংগঠন ‘স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ’ (স্বাচিপ) নেতা ও বগুড়ার আওয়ামীগের এমপি ডা. মোস্তফা আলম নান্নুর ঘনিষ্ঠ সহযোগি ছিলেন। তার বিরুদ্ধে ওই সময় ড্যাবের কোন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ না করে স্বাচিপের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করা এবং তার কোন প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা নাই বলে অভিযোগ ওই সূত্রের।
এদিকে, রামেবির ভিসির দৌড়ে থাকা রামেকের হৃদরোগ বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ডাঃ মোঃ রইস উদ্দীনের বিরুদ্ধে হার্টের রিং কেলেঙ্কারির অভিযোগ রয়েছে। তার কাছে হার্টের কোন রোগি গেলেই অপ্রয়োজনে রিং পরানোর অভিযোগ রয়েছে। রামেক হাসপাতালের হৃদরোগ ওয়ার্ডের দায়িত্বে থাকাকালীন তার প্রাইভেট রোগিকে সরকারি হাসপাতালে এনে টাকার বিনিময়ে রিং পরানোর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ওই সময় তার বিরুদ্ধে হার্টের রিং সরবরাহকারী কোম্পানির কাছ থেকে পঞ্চাশ-ষাট ভাগ পার্সেন্টেজ খাওয়ার অভিযোগে সংবাদ প্রকাশিত হলে ব্যাপক তোলপাড় হয় এবং তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়। তবে পরবর্তীতে তার বন্ধু রামেক হাসপাতালের পরিচালক হয়ে আসলে সেটি আর আলোর মুখ দেখেনি। বরং পরিচালককে দিয়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা অন্যান্য স্টাফদের ওই ওয়ার্ড থেকে বদলি করেন তিনি। রামেকে প্রায় একযুগ কর্মরত থাকাকালীন ড্যাবের কোন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ না করে স্বাচিপ নেতাদের সাথে তাল মিলিয়ে প্রমোশনসহ সকল সুবিধা নেন এ চিকিৎসক। ভিসি হওয়ার জন্য তার প্রশাসনিক কোন অভিজ্ঞতাও নেই বলে জানান সংশ্লিষ্ট সূত্র।
এদু’জন ছাড়াও ড্যাব নেতা ডা. ওয়াসিম হোসেন, ডা. গোলাম কিবরিয়া ডনসহ আরও তিন/চারজন ভিসি হওয়ার চেষ্টা করছেন, যাদের প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা নাই বলে জানা গেছে।
এবিষয়ে জানতে অধ্যাপক ডাঃ মোঃ লতিফুর রহমান অপু এবং অধ্যাপক ডাঃ মোঃ রইস উদ্দীনের মোবাইলে কল দিলে তারা ফোন রিসিভ না করায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে, রাজশাহী ড্যাবের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, একাধিক গ্রুপিংয়ের কারণে রাজশাহী ড্যাব অতটা শক্তিশালী নয়। ফলে ভিসির জন্য সুনির্দিষ্ট কোন তালিকা কেন্দ্রে পাঠানো সম্ভব হয়নি। যে যার মত কেন্দ্রে চেষ্টা, তদবীর করছেন বলে জানান ড্যাবের ওই নেতা। তবে তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের ত্যাগি, সৎ ও যোগ্য কোন নেতাকে ভিসি নিয়োগ দিবেন।

