পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান অভিযোগ করেছেন, রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তি, বিশেষ করে মন্ত্রী-এমপিদের প্লট বরাদ্দ দিতে গিয়ে রাজউক মারাত্মক ক্ষতি করেছে। তিনি বলেন, “বন কেটে প্লট করা হয়েছে। যখন রাজউক ডিটেইল এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) তৈরি করে, তখন ব্যবসায়ীরা নিজেদের স্বার্থে তার বিরোধিতা করেছে।”
মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে বিশ্বব্যাংক আয়োজিত ‘একটি টেকসই জীবন: বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও অর্থনীতির ওপর তাপের প্রভাব’ শীর্ষক প্রতিবেদনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রিজওয়ানা হাসান বলেন, তাপমাত্রা বৃদ্ধি এখন আর কেবল গবেষণার বিষয় নয়, বরং দেশের প্রতিটি মানুষের জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বাংলাদেশে অনেক বেশি তীব্রভাবে পড়ছে, যা জনস্বাস্থ্য ও অর্থনীতিকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, শুধু গবেষণা প্রতিবেদনে সীমাবদ্ধ না থেকে প্রস্তাবিত সুপারিশগুলোকে সময়সীমাবদ্ধ কর্মপরিকল্পনায় রূপান্তর করা জরুরি। প্রতিটি সংস্থাকে তাদের দায়িত্ব স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করতে হবে এবং জাতীয় পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে, যাতে সুপারিশ বাস্তব পদক্ষেপে রূপ নেয়।
তাপদাহ ও জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় নগর পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন পরিবেশ উপদেষ্টা। তার মতে—
- কংক্রিট কমিয়ে সবুজায়ন বাড়ানো
- গণপরিবহন কার্যকর করা
- ছাদবাগান সম্প্রসারণ
- কঠোর ভূমি-ব্যবহার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন
তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনগুলো ইতোমধ্যে সবুজায়ন উদ্যোগ নিয়েছে, তবে আরও বিস্তৃত পরিসরে পদক্ষেপ নিতে হবে।
রিজওয়ানা হাসান জলবায়ু সহনশীলতার সঙ্গে সুশাসন ও নাগরিক আচরণের পরিবর্তনের সম্পর্কের দিকেও আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, গঠনমূলক সংস্কারের পাশাপাশি ছোট ছোট আচরণগত পরিবর্তনও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। যেমন— অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ ব্যবহার কমানো। তার মতে, “সবুজ নগর মানেই সুস্থ জীবন।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান; বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের ডিভিশনাল ডিরেক্টর জাঁ পেসমে এবং সাউথ এশিয়া হেলথ নিউট্রিশন অ্যান্ড পপুলেশন প্র্যাকটিস ম্যানেজার ড. ফেং ঝাও।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র অপারেশনস অফিসার ইফফাত মাহমুদ এবং সিনিয়র হেলথ স্পেশালিস্ট ওয়ামেক এ. রাজা।

