সত্যজিৎ দাস:
ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া,হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলায় পৃথক অভিযানে মোট ১ লাখ ৫২ হাজার টাকা জরিমানা করেছে র্যাব-৯ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। রোববার (১২ এপ্রিল) পরিচালিত এসব অভিযানে ভোজ্য তেল মজুদ, অতিরিক্ত দামে বিক্রি,ওজনে কারচুপি এবং পণ্যের মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করার প্রমাণ পাওয়া যায়।
র্যাব-৯ জানায়,জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন,২০০৯ অনুযায়ী মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর বা আইনবিরোধী পদ্ধতিতে পণ্য উৎপাদন বা বিক্রি,ওজনে কারচুপি কিংবা মূল্যতালিকা না টাঙানো দণ্ডনীয় অপরাধ। এসব অনিয়ম রোধে র্যাব-৯ বিভিন্ন এলাকায় গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করেছে।
এর অংশ হিসেবে র্যাব-৯ সিপিসি-১ ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং জেলা প্রশাসনের যৌথ দল রোববার সকাল ১১টা ৪৫ মিনিট থেকে দুপুর ১টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত সদর উপজেলার জগৎবাজার এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে অতিরিক্ত ভোজ্য তেল মজুদের দায়ে তিন ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়। এর মধ্যে মো. মাজু মিয়াকে ৩০ হাজার,ধনঞ্জয় সাহাকে ২০ হাজার এবং কৃষ্ণ পদ সাহাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ অভিযানে মোট ৭০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
একই দিন দুপুর ১টার দিকে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার অলিপুর বাজারে র্যাব-৯ সিপিসি-৩,শায়েস্তাগঞ্জ ক্যাম্প এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের যৌথ দল অভিযান পরিচালনা করে। পণ্যের মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করা এবং ভোজ্য তেল অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগে তিন ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়। তোফাজ্জলকে ২০ হাজার,রাজুকে ৫ হাজার এবং সালাউদ্দিনকে ৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ অভিযানে মোট ৩২ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
অপরদিকে বিকেল ৪টার দিকে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মোকাম বাজার বিসিক শিল্পনগরী এলাকায় অভিযান চালায় র্যাব-৯ সিপিসি-২,আর্মি ক্যাম্প ও জেলা প্রশাসনের যৌথ দল। সেখানে মেসার্স লক্ষী এডিবেল প্রোডাক্ট কারখানায় ওজনে কারচুপি এবং অতিরিক্ত দামে ভোজ্য তেল বিক্রির অভিযোগে মালিক পুনম চন্দ্র দাসকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
র্যাব-৯ জানায়,জনস্বার্থ রক্ষা এবং বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
র্যাব-৯ সিলেটের মিডিয়া অফিসার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে. এম. শহিদুল ইসলাম সোহাগ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

