সাভার প্রতিনিধি:
আওয়ামী লীগপন্থী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ থাকা মো. আব্দুর রহিম বর্তমানে সাভার পৌর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি হওয়ায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অতীতে স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা হিসেবে পরিচিত এই ব্যক্তি এখন বিএনপিপন্থী শ্রমিক রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হওয়ায় প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই।
জানা গেছে, আব্দুর রহিম নোয়াখালী সদর উপজেলার এওজবালিয়া ইউনিয়নের আবু বকর সিদ্দিকের ছেলে। গ্রামের বাড়ি নোয়াখালী হলেও তিনি দীর্ঘদিন ধরে সাভারে বসবাস করছেন। গত বছরের ৫ আগস্টের আগে তিনি সাভার পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি এবং বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের নোয়াখালী জেলা শাখার সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
অভিযোগ রয়েছে, তিনি জুলাই বিপ্লবে ছাত্র হত্যা মামলার একজন আসামি এবং তার বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি মামলা চলমান রয়েছে। গতবছর নোয়াখালী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর আলোর সঙ্গে তার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।
এদিকে সাভার পৌরসভা শাখা জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের ১২১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে তাকে প্রথমবারের মতো সিনিয়র সহ-সভাপতি করা হয়েছে। এতে চতুর্থবারের মতো সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন মো. শহিদুল ইসলাম কামাল এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন মো. মিজানুর রহমান আরিফ।
ঢাকা-১৯ (সাভার-আশুলিয়া) আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবুর সুপারিশক্রমে ঢাকা জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি হাজি মো. দ্বীন ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মো. হোসেন আলীর স্বাক্ষরে এই কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। গত বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রাতে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কমিটি ঘোষণার বিষয়টি জানানো হয়।
তবে স্থানীয় নেতাকর্মীদের একাংশের অভিযোগ, অতীতে আওয়ামী লীগপন্থী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা আব্দুর রহিম রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দল বদলে শ্রমিক দলে পদ পেয়েছেন। এমনকি মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তিনি এই পদ বাগিয়ে নিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এর আগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাভারে অবস্থিত জাতীয় অন্ধ কল্যাণ সংস্থা মার্কেটের ইনচার্জ হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করছেন। অভিযোগ রয়েছে, ওই মার্কেটের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জিম্মি করে বিভিন্নভাবে অর্থ আত্মসাৎ করার গুঞ্জন রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এছাড়াও সাভারের বিরুলিয়া রোডে অবস্থিত অন্ধ কল্যাণ সংস্থা মার্কেটের বাইরের অংশে সেট নির্মাণ করে ভাড়া দিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা। সেখানে বেশিরভাগ দোকানদারই তার নিজ এলাকা নোয়াখালীর বলে জানা গেছে।
স্থানীয় বিএনপি সমর্থকরা বলছেন, এ ধরনের বিতর্কিত ব্যক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হলে সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নেতাদের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

