মীর ইমরান, মাদারীপুর প্রতিনিধি:
মাদারীপুরের শিবচরে সংস্কারের নামে একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এখন যেন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার, চরম ধীরগতি আর ঠিকাদারের উদাসীনতায় গত ১৪ মাস ধরে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) এই অনিয়মের প্রতিবাদে এবং দ্রুত সংস্কারের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
ধুলার চাদরে ঢাকা জনপদ, বাড়ছে অসুখ উপজেলার উমেদপুর ইউনিয়নের ড. নূরুল আমিন ডিগ্রি কলেজ থেকে ক্রোবচর ভায়া ভান্ডারী কান্দি-ছিলাচর পর্যন্ত বিস্তৃত এই ৭ কিলোমিটার সড়কটি এখন স্রেফ ধুলার মরুভূমি। নিম্নমানের খোয়া আর অতিরিক্ত বালু-মাটি ব্যবহারের ফলে পুরো এলাকা ধুলার চাদরে ঢাকা পড়ে রয়েছে।
শিবচর উপজেলা আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মোঃ ইব্রাহিম হোসেন জানান, এই ধুলার কারণে শিশু ও বৃদ্ধরা মারাত্মক শ্বাসকষ্ট এবং ফুসফুসের সংক্রমণে ভুগছেন। স্থানীয়রা জানান, ঘরে খাবার রাখা থেকে শুরু করে দোকানে পণ্য সাজিয়ে রাখা—সবই এখন অসম্ভব হয়ে পড়েছে ধুলার দাপটে।
পকেট কাটছে চালকদের,পকেট ভরছে ঠিকাদারের? ভ্যানচালক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে বলেন, “সংস্কারের নামে রাস্তা খুঁড়ে রাখায় আমাদের রুটি-রুজিতে টান পড়েছে। প্রতি মাসে গাড়ির টায়ার-টিউব নষ্ট হচ্ছে, মেরামতের খরচ চালাতে গিয়ে সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদার এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন কাজ শুরুর পর থেকেই নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করছেন এবং তদারকির অভাবে অত্যন্ত নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করছেন।
শনিবার সকালে শিবচর উপজেলা ভদ্রাসন ইউনিয়নের ক্রোকচর এলাকায় আয়োজিত এক বিশাল মানববন্ধনে এলাকাবাসী একজোট হয়ে প্রতিবাদ জানান।
তাদের দাবি একটাই-অবিলম্বে এই ‘কচ্ছপ গতির’ কাজ বন্ধ করে মানসম্মতভাবে দ্রুত সড়কটি চলাচলের উপযোগী করতে হবে। অন্যথায় আরও কঠোর ও বৃহত্তর কর্মসূচি পালনের হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।
এতসব অভিযোগের পাহাড় জমলেও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কর্মকর্তাদের কোনো হেলদোল নেই।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রকৌশলীকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি, যা স্থানীয়দের মনে ক্ষোভের আগুন আরও উসকে দিয়েছে।
শিবচরের এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি কি তবে এভাবেই অবহেলায় পড়ে থাকবে, নাকি জনদাবির মুখে ফিরবে কাজের গতি-এখন এটাই দেখার অপেক্ষায় এলাকাবাসী।

