বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) থেকে আগেই বিদায় নিশ্চিত হলেও নিজেদের শেষ ম্যাচে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছে নোয়াখালী এক্সপ্রেস। রোববার (১৮ জানুয়ারি) মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে নির্ধারিত ২০ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ১৭৩ রানের লড়াকু পুঁজি গড়ে দলটি।
নোয়াখালীর এই সংগ্রহের নায়ক আফগানিস্তানের অলরাউন্ডার মোহাম্মদ নবীর ছেলে হাসান ইসাখিল। মারকুটে ব্যাটিংয়ে ১১টি ছক্কা হাঁকিয়ে বিপিএলে স্মরণীয় এক সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি।
টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে নোয়াখালীর শুরুটা আশাব্যঞ্জক মনে হলেও দ্রুতই ধাক্কা খায় দলটি। ওপেনার রহমত আলী ৯ রান করে এবং জাকের আলী অনিক ৩ রান করে সাজঘরে ফেরেন। দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় নোয়াখালী।
এরপর অধিনায়ক হায়দার আলীকে সঙ্গে নিয়ে রংপুরের বোলারদের ওপর কার্যত তাণ্ডব চালান হাসান ইসাখিল। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন তিনি। স্পিন ও পেস—দুই ধরনের বোলারকেই সমানতালে শাস্তি দেন ইসাখিল।
তৃতীয় উইকেটে ইসাখিল–হায়দার জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় নোয়াখালী। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেন এই দুই ব্যাটার। মাত্র ৭০ বলে ক্যারিয়ারের প্রথম বিপিএল সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ইসাখিল, যা দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস সৃষ্টি করে।
এই সেঞ্চুরির মধ্য দিয়ে বিপিএলের ইতিহাসে প্রথম আফগান ব্যাটার হিসেবে শতক হাঁকানোর কীর্তি গড়েন হাসান ইসাখিল। একই সঙ্গে এটি চলতি আসরের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। এর আগে রাজশাহী ওয়ারিওর্সের হয়ে সেঞ্চুরি করেছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত।
শেষ পর্যন্ত ৪টি চার ও ১১টি ছক্কার সাহায্যে ৭২ বলে অপরাজিত ১০৭ রান করেন হাসান ইসাখিল। অপর প্রান্তে অধিনায়ক হায়দার আলী ৩টি চার ও ১টি ছক্কায় ৩২ বলে অপরাজিত ৪২ রান করে দারুণভাবে সঙ্গ দেন।
দুই ব্যাটারের দৃঢ়তায় নির্ধারিত ২০ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ১৭৩ রানের লড়াকু সংগ্রহ দাঁড় করায় নোয়াখালী এক্সপ্রেস। টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিশ্চিত হলেও শেষ ম্যাচে ব্যাটিং পারফরম্যান্সে ইতিবাচক ছাপ রেখে মাঠ ছাড়ে দলটি।

