সুলতান মাহমুদ, দিনাজপুর :
দিনাজপুর পার্বতীপুরের কয়লাভিত্তিক বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র–এর তিনটি ইউনিটের সবকটির বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জেলার গ্রামগঞ্জের কিছু এলাকায় সাময়িক লোডশেডিং দেখা দিয়েছে। তবে শহর এলাকায় এর তেমন প্রভাব পড়েনি।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দিনাজপুর শহরে বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রায় স্বাভাবিক থাকলেও বিভিন্ন গ্রামীণ এলাকায় হালকা ও স্বল্পমেয়াদি লোডশেডিংয়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, কোথাও আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকলেও কিছু সময় পর পুনরায় সরবরাহ স্বাভাবিক হচ্ছে।
দিনাজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি–১ এর ম্যানেজার আখতার হোসেন জানান, বিদ্যুতের ঘাটতি না থাকলেও লোড ম্যানেজমেন্টের অংশ হিসেবে কিছু এলাকায় সাময়িক লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ থাকলেও জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। বর্তমানে শীত মৌসুম হওয়ায় বিদ্যুতের চাহিদা তুলনামূলক কম থাকায় এর বড় কোনো প্রভাব পড়েনি।
কামদেবপুর এলাকার বাসিন্দা মোরসালিন জানান, এলাকায় হালকা লোডশেডিং হলেও তা সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। বীরগঞ্জের ঝাড়বাড়ী এলাকার নুরুল ইসলাম বলেন, সকালে কয়েক দফা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হলেও এক ঘণ্টার মধ্যে সরবরাহ স্বাভাবিক হয়েছে। মাজাডাঙ্গা এলাকার কৃষক মাসুদ রানা জানান, ইরি ধানের মৌসুম শুরু না হওয়ায় আপাতত বিদ্যুৎ না থাকলেও বড় ধরনের সমস্যা হচ্ছে না, তবে কৃষিকাজ শুরু হলে বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব পড়তে পারে।
জানা গেছে, গত রোববার (১৮ জানুয়ারি) বেলা সোয়া ১১টায় ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন প্রথম ইউনিটটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে যায়। এর আগে ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার তৃতীয় ইউনিটটি গত বছরের ১ নভেম্বর থেকে বন্ধ রয়েছে এবং ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার দ্বিতীয় ইউনিটটি ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে উৎপাদনের বাইরে। ফলে কেন্দ্রটির মোট ৫২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন পুরোপুরি স্থগিত রয়েছে।
বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু বককর সিদ্দিক জানান, প্রথম ইউনিটের বয়লারের টিউব ফেটে যাওয়ায় উৎপাদন বন্ধ করতে হয়েছে। বয়লারটি ঠাণ্ডা হলে মেরামতকাজ শুরু হবে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড পরিচালিত এ কেন্দ্রটি বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির কয়লার ওপর নির্ভরশীল। তৃতীয় ইউনিটের যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামতে কাজ চলছে এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ চীন থেকে এলে আগামী মার্চে উৎপাদনে ফেরার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

