ব্যস্ততার চাপে যেখানে রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি মুহূর্ত হিসাব কষে ব্যয় করতে হয়, সেখানে হঠাৎ করেই এক মানবিক দৃশ্যের অবতারণা হলো জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে। অধিবেশনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের বিরতির ফাঁকে দর্শক গ্যালারিতে গিয়ে জুলাই আন্দোলনে শহীদ হওয়া পরিবারের সদস্য এবং আহতদের কাছে কাছে যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ রবিবার সন্ধ্যায় (০৫ এপ্রিল ২০২৬) জাতীয় সংসদ অধিবেশনের গ্যালারির ‘মেঘনা হলে’ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাদের সাথে দেখা করেন। সেখানে আনুষ্ঠানিকতা আর দূরত্বের দেয়াল ভেঙে তৈরি হয় এক আন্তরিকতার পরিবেশ।

প্রধানমন্ত্রী একে একে কথা বলেন– সবার সঙ্গে। ক্ষমতার আসন ছেড়ে মানুষের কাছে যাওয়ার এক অনন্য উদাহরণ। কোনো প্রটোকলের দূরত্ব নয়, বরং একেবারে কাছাকাছি গিয়ে কথা বলেন তিনি। অনেকের চোখে এখনো না শুকানো বেদনার ছাপ, কারো মুখে ক্লান্তির ছায়া। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একে একে সবার খোঁজ-খবর নেন। কারো সন্তানের কথা শুনে থমকে যান, কারো চিকিৎসার অগ্রগতি জানতে চান, আবার কারো কাঁধে হাত রেখে সান্ত্বনা দেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর কথায় ছিল সহমর্মিতা, চোখে ছিল গভীর মনোযোগ, যেন রাষ্ট্রপ্রধান নন, একজন পরিবারের সদস্য হয়ে শুনছেন তাদের দুঃখ-দুর্দশার কথা।

জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষের আনুষ্ঠানিকতা আর রাজনৈতিক বক্তব্যের বাইরে এই সংক্ষিপ্ত মুহূর্ত যেন– অন্য এক বার্তা বহন করলো, রাষ্ট্র শুধু নীতিনির্ধারণে সীমাবদ্ধ নয়, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মধ্যেই তার প্রকৃত শক্তি। বিরতির এই অল্প সময়টুকুতে প্রধানমন্ত্রী যেন বুঝিয়ে দিলেন, দায়িত্ব শুধু প্রশাসনিক নয়, মানবিকও।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, সারাদেশ থেকে আসা প্রায় ৬০ জন জুলাই গণআন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত পরিবারের সদস্য এ সময় সংসদের দর্শক গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে ২৬ জন শহীদ পরিবারের সদস্য, বাকী সবাই জুলাই গণআন্দোলনে সরাসরি অংশ নিয়ে আহত হয়েছিলেন।অনেকেই এখনো চিকিৎসা নিচ্ছেন। তারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে তাদের দুঃখ-দুর্দশার কথা তুলে ধরেন।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও আন্তরিকতার সাথে একে একে তাদের সবার কথা শোনেন। কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সামনে কয়েকজন কান্নায় ভেঙে পড়েন। প্রধানমন্ত্রী এ সময় মাথায় হাত বুলিয়ে তাঁদের সান্ত্বনা দেন।
উল্লেখ্য, আবেগঘন পরিবেশের মাঝে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকার সবসময় জুলাই যোদ্ধাদের পাশে থাকবে।▫️

