মোঃ শাহ জামাল শাওন, ফুলবাড়ী, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার খড়িবাড়ি বাজার সংলগ্ন এসএস দারুল খাঈর মাদ্রাসায় এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে এক শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের গুরুতর অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উদ্বেগ, ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় জনগণের মধ্যে ন্যায়বিচারের দাবি জোরালো হলেও, একই সঙ্গে একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযোগের প্রেক্ষিতে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে একটি মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। তবে ওই মানববন্ধনে প্রকৃত অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো না হয়ে বরং প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সালাম সুজার বিরুদ্ধে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়। এতে করে সাধারণ মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয় এবং ঘটনাটির মূল বিষয় আড়ালে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
সবচেয়ে বিতর্কের জন্ম দেয় মানববন্ধনে প্রকৃত অভিযুক্ত ব্যক্তির পরিবর্তে অন্য একজনের ছবি ব্যবহার করার ঘটনা। বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি করেছে। সচেতন মহল বলছে, এটি শুধু অনভিপ্রেতই নয়, বরং একটি গুরুতর অপরাধের বিচার প্রক্রিয়াকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে।
এ পরিস্থিতিতে ৮ এপ্রিল আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সালাম সুজা এ ধরনের কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
তিনি বলেন, “একটি ন্যক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি না করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে একজন নির্দোষ ব্যক্তিকে জড়িয়ে অপপ্রচার চালানো অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। এ ধরনের অপচেষ্টা প্রকৃত অপরাধীদের রক্ষা করারই শামিল।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। প্রকৃত দোষীকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে ফুলবাড়ী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করা হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত বক্তারা অভিযোগ করেন, একটি স্বার্থান্বেষী চক্র পরিকল্পিতভাবে মাদ্রাসার সুনাম ক্ষুণ্ন করতে এবং জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াতে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তারা বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে তা সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
এ সময় প্রতিষ্ঠানের উপদেষ্টা সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোঃ জামিল বলেন,একটি সংবেদনশীল ঘটনাকে কেন্দ্র করে কিছু অসাধু ব্যক্তি নিজেদের স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই এবং প্রকৃত সত্য উদঘাটনে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, প্রকৃত অভিযুক্ত ব্যক্তিকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। একই সঙ্গে যারা মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে, তাদের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি গুজব, অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা বলেন, এ ধরনের সংবেদনশীল ঘটনায় যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রচার না করে দায়িত্বশীল আচরণ করা সকলের কর্তব্য।
পাশাপাশি, সত্য উদঘাটনে গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, প্রশাসনের যথাযথ হস্তক্ষেপ এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে খুব শিগগিরই প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে এবং দোষীরা শাস্তির আওতায় আসবে। এ সময় ভিক্টিমের বাবা শাহিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন থানায় অভিযোগ করা হয়েছে এবং মেডিকেল টেস্ট এর রিপোর্ট সংগ্রহ করা হয়েছে পরবর্তীতে চাইলেই দিতে পারব বলে জানান। রিপোর্ট চাইলে তাৎক্ষণিক রিপোর্ট নাই বলে জানান সে। সংগ্রহ করে দিতে পারবে।

