গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলায় সাব-রেজিস্ট্রার অফিস স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় চার ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকালে গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এরেন্ডাবাড়ী, ফজলুপুর, ফুলছড়ি ও গজারিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দারা অংশ নেন।
বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে গজারিয়া ইউনিয়নে পরিচালিত সাব-রেজিস্ট্রার অফিসটি হঠাৎ স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক এবং জনদুর্ভোগ সৃষ্টিকারী।
বক্তারা জানান, ব্রিটিশ আমল থেকে গজারিয়ায় এ অফিসের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে এবং এ পর্যন্ত কোনো ধরনের প্রশাসনিক জটিলতা দেখা যায়নি। ভৌগলিক দিক থেকেও গজারিয়া সুবিধাজনক হওয়ায় উপজেলার অধিকাংশ মানুষ এখান থেকেই সেবা গ্রহণ করে আসছে।
তারা আরও বলেন, বর্তমান স্থানে অফিস থাকলে চরাঞ্চলের মানুষ সহজেই নৌপথে যাতায়াত করতে পারে। প্রয়োজনে নিরাপদে রাত্রীযাপনের ব্যবস্থাও রয়েছে। কিন্তু নতুন স্থানে এসব সুবিধা অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।
বক্তারা উল্লেখ করেন, গজারিয়ার ঐতিহ্যবাহী ফুলছড়ি হাটে সপ্তাহে দুই দিন দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যবসায়ীরা সমবেত হন। এতে দলিল সংক্রান্ত কাজ সহজে সম্পন্ন করা যায়। কিন্তু অফিসটি কালিরবাজারে স্থানান্তর করা হলে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের মানুষকে অতিরিক্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে হবে, যা সময় ও ব্যয় বাড়াবে এবং যাতায়াতে নিরাপত্তা ঝুঁকি সৃষ্টি করবে।
সংবাদ সম্মেলনে সংগ্রামী ফুলছড়িবাসীর পক্ষে সমন্বয়ক ও যুগ্ম আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান বাবু বক্তব্য দেন। এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন, গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম খুশু, ফুলছড়ি ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান সাইফুল আমিন, ইউপি সদস্য জিহাদুর রহমান মওলা, প্যানেল চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মনি, গজারিয়া ইউপি সাবেক চেয়ারম্যান সামছুল আলম সরকার, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) গজারিয়া ইউনিয়ন সভাপতি সাইফুল ইসলাম, জামায়াতে ইসলামী ইউনিয়ন সভাপতি আশরাফুল ইসলাম টিটু, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আজহারুল ইসলাম বাবু, মশিউর রহমান, জাহিদুল ইসলামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
সংবাদ সম্মেলন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল ইউনিয়ন পরিষদ চত্বর থেকে বের হয়ে সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের সামনে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়।
বক্তারা দ্রুত স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত বাতিল করে গজারিয়া ইউনিয়নেই সাব-রেজিস্ট্রার অফিস বহাল রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচি গ্রহণের হুঁশিয়ারি দেন তারা।

