পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি:
খুলনার পাইকগাছা পৌর এলাকায় অবৈধভাবে নোনা পানি উত্তোলন বন্ধ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বিশিষ্ট আইনজীবী, সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী অ্যাড. এফ এম এ রাজ্জাক। শনিবার সকালে পাইকগাছা প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি লিখিত বক্তব্যে বিস্তারিত তুলে ধরেন।
অ্যাড. রাজ্জাক জানান, পৌর এলাকার নাগরিক অধিকার রক্ষা এবং পরিবেশ সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে রেজিস্ট্রি ডাকযোগে একটি অবগতি পত্র পাঠানো হয়েছে। ওই পত্রে নোটিশ প্রাপ্তির সাত দিনের মধ্যে নোনা পানি উত্তোলন বন্ধ এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, জাতীয় চিংড়ি নীতিমালা-২০০৮ এবং হাইকোর্টের রিট পিটিশন নং-৫৭/১০ অনুযায়ী সুন্দরবন উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষিজমি ও বসত এলাকায় নোনা পানি উত্তোলন করা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। পাইকগাছা উপজেলা পরিষদ থেকেও পৌর এলাকার মধ্যে নোনা পানি উত্তোলন করে চিংড়ি চাষ বন্ধের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
অ্যাড. রাজ্জাক অভিযোগ করেন, কিছু অসাধু মৎস্য ঘের ব্যবসায়ী শিববাটি ও বয়রা এলাকার ওয়াপদা গেট এবং পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে ওয়াপদা বাঁধ কেটে পাইপ বা বক্স-কল বসিয়ে অবৈধভাবে নোনা পানি উত্তোলন করছেন। এর ফলে এলাকার জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে, সরকারি স্থাপনা, বসতবাড়ি, গাছপালা ও কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং মিষ্টি পানির সংকট তীব্র আকার ধারণ করছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হয়, তবে পৌরবাসীর স্বার্থ রক্ষায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং আদালতের আশ্রয় গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে পৌর প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী এবং পাইকগাছা থানার অফিসার ইনচার্জের কাছে অবগতি পত্র পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি কৃষি মন্ত্রণালয়, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়, খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য, খুলনা জেলা প্রশাসক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর কাছে অনুলিপি প্রেরণ করা হয়েছে।

