রাবি প্রতিনিধি:
চৈত্রের তপ্ত দুপুরে যখন প্রকৃতিতে নতুনের আগমনী বার্তা, তখন চারুকলা প্রাঙ্গণে বিরামহীন ব্যস্ততা। পহেলা বৈশাখ মানেই বাঙালির প্রাণের উৎসব আর এই উৎসবকে বরণ করে নিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) চারুকলা অনুষদে চলছে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ। শিক্ষার্থীরা নববর্ষ উদযাপনের শোভাযাত্রার জন্য বাঁশ, কাঠ, ককশিট ও রংতুলি দিয়ে বিভিন্ন মোটিফ তৈরি করছেন। এতে শেষ মুহূর্তে শিক্ষার্থীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন।
চারুকলা অনুষদ কর্তৃক এবারের শোভাযাত্রায় বেশ কিছু ব্যতিক্রমী মোটিফ স্থান পাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ঘোড়া ও ঘোড়ার গাড়ি, ইলিশ মাছ, টমটম গাড়ি, শখের হাড়ি এবং বিভিন্ন ঐতিহাসিক চরিত্রের মুখোশ।
সরেজমিনে দেখা যায় শিক্ষার্থীরা হাতুড়ি-পেরেকের শব্দ আর রঙ-তুলির আঁচড়ে প্রাণবন্ত করে তুলেছে পুরো অনুষদ। শিক্ষার্থীরা কেউ বাঁশ ও কাগজ দিয়ে তৈরি করছেন অতিকায় কাঠামো, কেউ ব্যস্ত ক্যানভাসে রঙের প্রলেপ দিতে। অন্যদিকে একদল শিক্ষার্থী ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন মাটির সোঁদা গন্ধ আর আঠালো মণ্ডের মাঝে বিশালকায় সব মুখোশ ও প্রতিকৃতিতে। বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সমসাময়িক নানা বার্তা ফুটে উঠছে এসব মোটিফে।
এসময় চারুকলা অনুষদের ভাস্কর্য বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী কল্যাণী বলেন, ‘এবারের বৈশাখে ধরনের মুখোশ, বাংলা নববর্ষের প্রবর্তক মুঘল সম্রাট আকবরের প্রতিকৃতি, বড় একটা ইলিশ মাছ, টমটম গাড়ি, ও ঘোড়া থাকবে যা বাংলার ঐতিহ্যকে বহন করে। তাছাড়াও থাকছে লক্ষ্মী সরা, শখের হাঁড়ি, বিভিন্ন ধরনের মুখোশ।’
তিনি বলেন, ‘এবার বৈশাখ আসলে আমাদের পরিবেশের অনুকূলেই হচ্ছে, এজন্য আমরা অনেক জাঁকজমকভাবে করছি। বিগত কয়েক বছর থেকে এভাবে করা হয়নি। সব মিলিয়ে অনেক সুন্দর উপভোগ করছি। আশা করছি অনেক ভালো হবে।’
চারুকলা অনুষদের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমাদের এখানে বিভিন্ন কারণে বিগত পাঁচ সাত বছর ওইভাবে বৈশাখ হয় না। এবার বৈশাখটা হচ্ছে। আমরা যতটা পারছি বৈশাখটা এবার সুন্দরভাবে করার চেষ্টা করছি।’
সার্বিক বিষয়ে পহেলা বৈশাখ উদযাপন কমিটির সদস্য ও চিত্রকলা, প্রাচ্যকলা ও ছাপচিত্র বিভাগের অধ্যাপক হুমায়ূন কবির বলেন, ‘আমরা মূলত চাই বাংলাদেশী ও বাঙালি সকলের শান্তি ও মঙ্গলময় দিন অতিবাহিত হোক। অতীতের যত গ্লানি আছে তা মুছে ফেলে সৃষ্টিকর্তা আমাদের আগামীকে আরও সুন্দর ও আনন্দময় করুক। সেই আকাঙ্ক্ষা নিয়েই আমাদের এই পহেলা বৈশাখ। আর প্রতিবছরের ন্যায় এবারও আমরা পহেলা বৈশাখ উদযাপন করছি। এবারে বৈশাখে আমাদের বাঙালির অতীত ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য গুরুত্বের সহিত স্থান পেয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও বাংলাদেশের পরিস্থিতিতে আমরা দেখছি তেলের সংকট বিকট আকার ধারণ করেছে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে আমরা ঘোড়ার গাড়িকে এবারে শোভাযাত্রায় স্থান দিয়েছি। যেটা আমাদের শিক্ষা দেয় অতীতে আমাদের পূর্বপুরুষরা তেল ছাড়াও চলাচল করেছে। সেই অতীত স্মৃতিকে আমরা নতুন করে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। এছাড়া মৃৎপাত্রে অলংকৃত ও শখের হাড়ি স্থান পেয়েছে। এই শখের হাড়ি রাজশাহী অঞ্চলের ঐতিহ্য বহন করে। আর এটার সামাজিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম।’

