ক্ষমতার পটপরিবর্তনের সাথে সাথে অনেকের অবস্থান ও আচরণ বদলে যাওয়া মানবাধিকার ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য বড় হুমকি বলে মন্তব্য করেছেন প্রখ্যাত আলোকচিত্রী ও মানবাধিকার কর্মী শহিদুল আলম।
সোমবার (৬ এপ্রিল) ‘ভয়েস ফর রিফর্ম’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে শহিদুল আলম গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার সংক্রান্ত অধ্যাদেশ স্থগিত এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিলের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং এটি বিচারিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাকে বাধাগ্রস্ত করে।
ক্রসফায়ার সংস্কৃতি নিয়ে তিনি বলেন, এটি বাংলাদেশে নতুন কিছু নয়; বিভিন্ন সরকারের আমলে ভিন্ন ভিন্ন নামে এটি চলে আসছে। ক্ষমতার বাইরে থাকতে যারা এর বিরোধিতা করেন, ক্ষমতায় যাওয়ার পর তারাই আবার এর রক্ষক হয়ে দাঁড়ান। ২০০৯ সালে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন যে ক্রসফায়ারের অস্তিত্ব অস্বীকার করেছিলেন, সেই উদাহরণও তিনি টেনে আনেন।
২০১০ সালে নিজের আয়োজিত ‘ক্রসফায়ার’ প্রদর্শনী নিয়ে অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, তৎকালীন সময়ে সশস্ত্র পুলিশের ঘেরাও ও নানা হুমকির মুখেও আদালতের সাহসিকতায় তিনি প্রদর্শনী করার সুযোগ পেয়েছিলেন। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে আদালতের সেই স্বাধীনতা ও সাহস আগের মতো আছে কি না, তা নিয়ে তিনি সংশয় প্রকাশ করেন।
গোপন নির্যাতন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত তথাকথিত ‘আয়নাঘর’ নিয়ে তিনি বলেন, এই স্থানগুলো পরিদর্শন করা এবং সেখানে কী ধরনের অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে, তা জনগণের সামনে আনা অত্যন্ত জরুরি। একটি সভ্য সমাজে এ ধরনের নির্যাতনমূলক ব্যবস্থা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন শহিদুল আলম। বিশেষ করে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে ফিলিস্তিনিদের ওপর দীর্ঘদিনের নিপীড়ন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বিশ্ব সম্প্রদায়ের কার্যকর ভূমিকার আহ্বান জানান।

