জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণ থাকবে ঢাকাতেই এবং এ দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে দেশের জনগণ। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, দিল্লিনির্ভর রাজনীতি বা সেই ধারা নতুন করে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করলে বাংলাদেশে তার কোনো জায়গা হবে না।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে সাভার পৌরসভার ডগড়মোড়া এলাকার মাতৃবাগান মসজিদ মাঠে ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, ৫ আগস্টের পর দেশের মানুষ প্রকৃত পরিবর্তন ও ইনসাফভিত্তিক শাসন চায়। তারা কোনো বিদেশি শক্তির ছায়ায় পরিচালিত সরকার আর দেখতে আগ্রহী নয়।
জনসভায় তিনি দেশের সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, ৫ আগস্টের পর নতুন এক জুলুমবাজ চক্র মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। বিভিন্ন এলাকায় আবারও চাঁদাবাজি, জমি দখল ও সহিংসতার ঘটনা ঘটছে, এমনকি পাথর নিক্ষেপ করে হত্যার মতো ঘটনাও সামনে আসছে।
নাহিদ ইসলাম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সফল অভ্যুত্থানের পর দেশের মানুষ আর কোনো নতুন জালেমকে মেনে নেবে না। তিনি আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে এই অপশক্তির বিরুদ্ধে রায় দেওয়ার সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, এই নির্বাচন হবে ঋণখেলাপি ও ভূমিদস্যুদের হাত থেকে দেশকে মুক্ত করার দিন। সংসদে যদি আবারও ঋণখেলাপি, ভূমি দখলদার কিংবা দ্বৈত নাগরিকত্বধারীরা প্রবেশ করে, তাহলে রাষ্ট্র কাঠামোয় কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।
ভোটারদের উদ্দেশে নাহিদ ইসলাম বলেন, সৎ, যোগ্য ও দেশপ্রেমিক প্রার্থীদের নির্বাচিত করাই এখন সবচেয়ে জরুরি। তাঁর মতে, ইনসাফভিত্তিক সমাজ গঠনে নীতিবান নেতৃত্বের কোনো বিকল্প নেই এবং সেই পরিবর্তনের নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত এনসিপি।
এই জনসভায় আরও বক্তব্য দেন ১১ দলীয় জোটের মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী দিলশানা পারুল, ঢাকা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মো. আফজাল হোসাইন, আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. শহিদুল ইসলাম, রাজনৈতিক সেক্রেটারি হাসান মাহবুব মাস্টার ও সাভার উপজেলা এনসিপির সমন্বয়ক মো. জুলকারনাইন। সভায় জোটের বিভিন্ন দলের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী ও সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।

