এম এ আউয়াল আশিক:
মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক যুবককে ছাত্রলীগ নেতা পরিচয় দিয়ে পুলিশে তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত পরিবারের দাবি, ওই যুবক কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত নন; বরং ব্যক্তিগত জমি বিরোধকে রাজনৈতিক রূপ দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, লৌহজং উপজেলার দক্ষিণ চারগাঁও গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মোফাজ্জল হোসেনের সঙ্গে বাড়ির পাশের একটি খাল ও রাস্তার জমি নিয়ে পার্শ্ববর্তী শরিকদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। বিষয়টি একাধিকবার উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে—ইউএনও ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)—মীমাংসা হলেও প্রতিপক্ষ সেই সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট হয়নি বলে অভিযোগ।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, মীমাংসা অমান্য করে প্রতিপক্ষ পরিকল্পিতভাবে মোফাজ্জল হোসেনের ছোট ছেলে সাজ্জাদ হোসেন তুষারকে ছাত্রলীগ নেতা আখ্যা দিয়ে পুলিশ দিয়ে বাড়ি থেকে তুলে নেয়।
এ বিষয়ে দক্ষিণ চারগাঁও এলাকার একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, সাজ্জাদ হোসেন তুষার কখনোই কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন না। তাদের ভাষ্য, জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরেই তাকে রাজনৈতিক ট্যাগ দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।
সাজ্জাদ হোসেন তুষারের বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা মোফাজ্জল হোসেন অভিযোগ করে বলেন,
“আমার বাড়ির পাশ দিয়ে একটি রাস্তা নির্মাণের প্রস্তাব এলে আমি স্বেচ্ছায় প্রায় ৩ শতাংশ জমি ছেড়ে দিই। কিন্তু শরিকরা এতে সন্তুষ্ট না হয়ে আরও জমি জোর করে নিতে চায়। আমি রাজি না হওয়ায় আজ তারা আমার ছেলেকে ছাত্রলীগের ট্যাগ লাগিয়ে পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দিয়েছে।”
অন্যদিকে, এ বিষয়ে লৌহজং থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন,
“আটককৃত সাজ্জাদ হোসেন তুষার ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি। তাকে আটকের জন্য আলাদা কোনো মামলা প্রয়োজন নেই। এটি ‘ডেভিল হান্ট ফেজ-টু’ অভিযানের অংশ। সে ফ্যাসিবাদের দোসর—এটাই তার অপরাধ।”
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় তীব্র আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ব্যক্তিগত জমি বিরোধকে রাজনৈতিক পরিচয়ের মাধ্যমে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবহার করা হলে তা গুরুতর নজির সৃষ্টি করবে। তারা বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।

