আমতলী প্রতিনিধি:
বরগুনার আমতলীতে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দায়ের করা হত্যাচেষ্টা মামলার পর বাদীকে এসিড হামলার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মামলার বাদী মোসা. নাজমা বেগম দাবি করেছেন, মামলা প্রত্যাহার না করলে প্রভাবশালী ইউসুফ মুসুল্লী ও তার লোকজন তাকে এসিড নিক্ষেপ করে জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। শুক্রবার দুপুরে উপজেলার চালিতাবুনিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, ২০২১ সালে জাকির হোসেন গাজী একই গ্রামের আজিজ মুসুল্লীর কাছ থেকে ১০ শতাংশ জমি ক্রয় করে সেখানে বসতবাড়ি নির্মাণ করেন। এরপর থেকেই ইউসুফ মুসুল্লী, আজিজ মুসুল্লী, দুলাল মুসুল্লীসহ তাদের সহযোগীরা জমি দখলের উদ্দেশ্যে বিভিন্নভাবে চাপ ও হয়রানি করে আসছেন বলে অভিযোগ। জাকির হোসেনের ভাষ্য, গত কয়েক বছরে তাকে ও তার পরিবারকে একাধিকবার মারধর করা হয়েছে এবং তাদের পালিত দুই শতাধিক মুরগি ও অন্যান্য প্রাণী বিষ প্রয়োগে মেরে ফেলা হয়েছে।
সর্বশেষ গত সোমবার পাঁচটি হাঁস ধানখেতে যাওয়াকে কেন্দ্র করে বিবাদ বাধে। এ সময় প্রতিপক্ষরা লোহার রড দিয়ে জাকির হোসেন গাজী, তার ছেলে রাকিবুল ইসলাম গাজী ও স্ত্রী নাজমা বেগমকে মারধর করে গুরুতর আহত করেন বলে অভিযোগ। স্থানীয়রা উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. রাশেদ মাহমুদ রোকনুজ্জামান প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার পর বৃহস্পতিবার নাজমা বেগম ইউসুফ মুসুল্লীকে প্রধান আসামি করে পাঁচজনের বিরুদ্ধে আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করেন। আদালতের বিচারক মো. ইফতি হাসান ইমরান মামলাটি আমলে নিয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে এজাহার হিসেবে গ্রহণ করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
মামলা দায়েরের পর থেকেই পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে বলে অভিযোগ। নাজমা বেগম বলেন, মামলা তুলে না নিলে আমাকে এসিড নিক্ষেপের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সন্তানদের নিয়ে আতঙ্কে আছি। আমরা প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার চাই।
আহত জাকির হোসেন গাজী বলেন, বাড়ি দখলের জন্য দীর্ঘদিন ধরে আমাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। সর্বশেষ হত্যার উদ্দেশ্যে লোহার রড দিয়ে আঘাত করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে ইউসুফ মুসুল্লী জানান, জাকিরের ছেলে তার চাচাকে মারধর করায় তিনি ‘দু-একটি চড়-থাপ্পড়’ দিয়েছেন। তবে এসিড হামলার হুমকির অভিযোগ অস্বীকার করেন।
আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. রাশেদ মাহমুদ রোকনুজ্জামান জানান, আহতদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করা হয়েছে।

