ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বার কে সাড়ে তিন হাত মাটির নিচে গেড়ে ফেলার প্রকাশ্য হুমকি দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
গত শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারী) উপজেলার বাচোর ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডে স্থানীয় ইউপি সদস্য আক্কাছ আলীর সাথে বাকবিতণ্ডার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। সেই ভিডিও তে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নুরুন্নবী সরকার কে উত্তেজিত অবস্থায় মেম্বার আক্কাছ আলী কে বলতে শোনা যায় আব্বা ডাকবেন আইসে পিআইও যে কি জিনিস তাকে আব্বা ডাকবেন, আমি পিআইও যদি চেয়ারম্যান কে বলি রাত দুই টায় আসবো দরকার হয় সে ১২ টা থেকে দাড়াই থাকবে।
আমি প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তা আমার টাইম নাই চেয়ারম্যান আর মেম্বার কে হিসাব করার। একদম গাড়ে ফেলবো সাড়ে তিন হাত মাটির নিচে। আপনার চেয়ারম্যান এমনি পালাই পালাই বেড়াই না। বলি গেলাম আপনিও পালায় বেড়াবেন। আপনার মেম্বারি খাইতে আমার একটা চিঠি দরকার, একজন অফিসার কে এত সহজ মনে করিয়েন না চেয়ারম্যান কেই গুণিনা আর আপনি তো মেম্বার।
এই এলাকাবাসী কেউ বলি গেলাম সে যদি মেম্বারি করতে পারে। আমার একটা চিঠিই যথেষ্ট, আমার একটা চিঠি ঢাকায় যাইতে যতখন সময় লাগে ততখনেই ওই সাসপেন্স হয়ে যাবে। আমি আপনাকে দেখায় দিবো প্রমাণ করে দিবো আপনার মেম্বারি খাবো তারপর আপনাকে জেলের ভাত খাওয়াবো, আমার যে কত ক্ষমতা এইবার দেখবেন।
একজন চেয়ারম্যান ও মেম্বারকে এমন হুমকি মুলক কথা বলার পরে স্থানীয়দের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় । অনেকেই বলছেন সরকারের একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি হয়ে তিনি এভাবে জনপ্রতিনিধি কে হুমকি দিতে পারে না। এবং স্থানীয় অনেক জনগণ তৎক্ষণাৎ এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করে পিআইও নুরুন্নবী সরকারের বিচার দাবী করেন।
মাটিতে পুতে ফেলার হুমকি পেয়ে ইউপি সদস্য আক্কাছ আলী নিজের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় এজাহার দায়ের করেছেন।এজাহারে আক্কাছ আলী উল্লেখ করেন, গত নভেম্বরের ২০২৫ সালে আমি টিআর কাবিখা বরাদ্দ পাই এবং উপরোক্ত বিবাদী টিআর কাবিখার উপর ভিত্তি করে আমার নিকট হইতে ২০,০oo (কুড়ি হাজার) টাকা উৎকোচ দাবী করে। কিন্তু বিবাদীকে আমি উৎকোচ দিতে অস্বীকার করায় অদ্য ২১/০২/২০২৬ ইং তারিখ দুপুর অনুমান ২.০০ ঘটিকার সময় আমার ঠিকানায় পরিদর্শনে যায়।
উক্ত সময় বিবাদী পুনরায় আমার নিকট হইতে উক্ত উৎকোচ চাহিলে আমি বিবাদীকে উৎকোচ দিতে অস্বীকার করি। বিবাদী আমার উৎকোচ দিতে অস্বীকার শুনা মাত্রই আমার উপর ক্ষিপ্ত হইয়া আমাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ পূর্বক মারপিটের হুমকি প্রদান করে। উক্ত সময় বিবাদী আমাকে হুমকি দিয়া বলে যে, আমি তোমার মেম্বারী খেয়ে ফেলবো, তোমাকে মাটিতে পুতিয়া ফেলিবো।
উক্ত সময় আমি বিবাদীকে বলি যে. আমার কাজের কোন অনিয়ম থাকলে আমার ইউপি চেয়ারম্যানকে বলেন। উক্ত সময় বিবাদী আমাকে হুমকি দিয়া বলে যে, তোমার চেয়ারম্যান তো চোর-বাটপার, সে আমাকে আব্বা বলে ডাকবে বলিয়া বিভিন্ন রকমের ভয়ভীতি সহ হুমকি প্রদান করে।
এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে রাণীশংকৈল উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নুরনবী সরকারের বলেন বক্তব্য নিতে তার মোবাইলে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেনি। ঘটনা বিষয়ে ইউএনও খাদিজা বেগম বলেন আমি কিছু জানি না।

