আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের রাজনৈতিক সমীকরণ নাটকীয় মোড় নিয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহর মনোনয়নপত্র বাতিল চেয়ে আবেদন করেছেন বিএনপি প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী।
অন্যদিকে, ঋণ খেলাপির তালিকায় নাম থাকায় মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর নিজের নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়েও তৈরি হয়েছে আইনি জটিলতা।শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশনে (ইসি) হাসনাত আবদুল্লাহর মনোনয়ন বাতিলের জন্য লিখিত আবেদন করেন মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, হাসনাতের দাখিলকৃত হলফনামা পরস্পরবিরোধী এবং তার সম্পদ বিবরণীতে বড় ধরনের গরমিল রয়েছে।
আবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়:
হাসনাতের স্ত্রীর আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া হয়নি।
নির্বাচনী ব্যয়ের উৎসের স্বচ্ছ প্রমাণ নেই, যা নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী ‘কালো টাকা’ হিসেবে গণ্য হতে পারে।
এই ধরনের তথ্য গোপন বা মিথ্যা তথ্য প্রদান নির্বাচনী বিধিতে ‘ক্রিমিনাল অফেন্স’ বা ফৌজদারি অপরাধ।
একই সময়ে বিএনপি প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর প্রার্থিতা নিয়েও বড় ধরনের সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) চেম্বার আদালত এক আদেশে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর নাম ঋণ খেলাপির তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছেন। বিচারপতি মো. রেজাউল হকের আদালত প্রিমিয়ার ব্যাংকের আবেদনের প্রেক্ষিতে এই আদেশ দেন।
আইনজীবীরা জানিয়েছেন, চেম্বার আদালতের এই স্থগিতাদেশের ফলে আসন্ন নির্বাচনে মুন্সীর অংশ নেওয়ার সুযোগ আপাতত বন্ধ হয়ে গেল। এর আগে হাইকোর্ট তার নাম ঋণ খেলাপির তালিকা থেকে স্থগিত করলে তিনি নির্বাচনের পথ প্রশস্ত করেছিলেন, যা এখন পুনরায় আইনি বাধার মুখে পড়ল।
আজ ছিল মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল করার শেষ দিন। আগামী ১০ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনে এসব আপিলের শুনানি চলবে। সেখানেই নির্ধারিত হবে হাসনাত আবদুল্লাহ কিংবা মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর চূড়ান্ত ভাগ্য।
এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য এনসিপি প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ এবং বিএনপি প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কাউকে পাওয়া যায়নি।

