প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ আনন্দ কাটানো হাসি, ভালোবাসা আর স্মৃতিমাখা মুহূর্তগুলো বুকে নিয়ে জীবনের বাস্তবতার টানে আবারও উত্তর-দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ কর্মব্যস্ত শহর ঢাকায় ফিরছে।
শনিবার (২৮ মার্চ) বেলা সাড়ে ১০ টায় ঢাকা-যমুনা সেতু পশ্চিম মহাসড়কে দেখা গেছে এক আবেগঘন দৃশ্য। দূরপাল্লার বাস, প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলে করে কর্মস্থলে ফিরছেন উত্তর-দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ। প্রতিটি যানবাহনে যেন লুকিয়ে আছে বিদায়ের কষ্ট, আবার নতুন করে শুরু করার দৃঢ়তা।
ঈদ উপলক্ষে ঢাকার গাজীপুর থেকে ছুটিতে সিরাজগঞ্জের তাড়াশের গ্রামের বাড়িতে পরিবার নিয়ে এসেছিলেন জুলমাত শেখ। আনন্দঘন সময় কাটিয়ে এখন আবার কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন তিনি।
সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল গোলচত্বর এলাকায় কথা হয় জুলমাত শেখের সঙ্গে। তিনি বলেন, সারা বছর কাজের চাপে থাকি। ঈদের এই সময় টুকুই পরিবারের সঙ্গে কাটানোর সুযোগ পাই। কয়েকটা দিন খুব ভালো কেটেছে। এখন আবার ঢাকায় ফিরছি, তবে এই ভালোবাসাই সারা বছর শক্তি দেবে।
উল্লাপাড়ার শেফালী খাতুন বলেন, ঈদের কয়েকটা দিন যেন স্বপ্নের মতো কেটে গেল। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটিয়ে মনটা ভরে গেছে। এখন আবার ঢাকায় ফিরতে হচ্ছে, কিন্তু এই স্মৃতিগুলোই শক্তি জোগাবে।
কড্ডার মোড় এলাকায় বাসে ওঠার সময় বেসরকারি চাকরিজীবী নীরব শেখ বলেন, প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানো প্রতিটি মুহূর্ত ছিল আবেগে ভরা। ঈদের নামাজ, একসঙ্গে খাওয়া, গল্প আর হাসি সব মিলিয়ে হৃদয়টা ভালোবাসায় ভরে গেছে। এই অল্প সময়েই সারা বছরের ক্লান্তি দূর হয়ে গেছে।
সেবা লাইনের চালক হাফিজুর রহমান বাবু বলেন, ঈদের আগে যেমন যাত্রীর চাপ থাকে, ঈদের পরেও তেমনই থাকে। সবাই একসঙ্গে ঢাকায় ফিরতে চায়। আমরা চেষ্টা করছি নিরাপদে সবাইকে পৌঁছে দিতে।
নলকা বাজারের হোটেল ব্যবসায়ী শামিম শেখ বলেন, ঈদের সময় গ্রাম মানুষে ভরে ওঠে, আর ছুটি শেষে আবার ফাঁকা হয়ে যায়। এই সময়টা একটু কষ্টের লাগে, তবে এটাই বাস্তবতা।
যমুনা সেতু পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিরুল ইসলাম বলেন, ঈদের ছুটি শেষে ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছে হাজার হাজার মানুষ। এতে সেতুর গোলচত্বর এলাকায় যানবাহনের কিছুটা ধীরগতি রয়েছে। যানজট নিয়ন্ত্রণ ও দুর্ঘটনা এড়াতে নিয়মিত কাজ করা হচ্ছে। ৬৫০-এর বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছে।
এসআই এন্টার প্রাইজের টিকিট বিক্রেতা ইব্রাহিম হোসেন বলেন, এখনো ঈদযাত্রা অব্যাহত রয়েছে। সিরাজগঞ্জ থেকে নিয়মিত যাত্রী নিয়ে বাস ঢাকায় যাচ্ছে। এবারের যাত্রা অন্য সময়ের তুলনায় অনেক স্বস্তিদায়ক হয়েছে, যাত্রীদের তেমন কোনো ভোগান্তি হয়নি।
ঈদের আনন্দ ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে এলেও পরিবারের ভালোবাসা আর স্মৃতিগুলোই হয়ে উঠছে নতুন করে পথচলার প্রেরণা। তাইতো চোখে স্বপ্ন আর মনে দৃঢ়তা নিয়ে আবারও ঢাকার পথে ছুটছে উত্তরের মানুষ।
হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন বলেন, ঢাকামুখী লেনে যানবাহনের চাপ থাকলেও মহাসড়কে কোনো যানজট নেই। উত্তরবঙ্গগামী মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। বৃষ্টির কারণে সকাল থেকে সেতু এলাকায় যান চলাচলে কিছু সময় লেগেছিলো। বর্তমানে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। আমরা যাত্রীদের কর্মস্থলে পৌঁছাতে কাজ করছি।

