জয়পুরহাট প্রতিনিধি :
জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক না থাকায় চিকিৎসা বিলম্বের কারণে জোসনা আরা (৬৫) নামে এক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকার মৃত্যুর হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার দুপুর ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্বজনেরা জরুরি বিভাগে চিৎকার-চেচামেচি করেন। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। মৃত্যুর প্রায় দুই ঘণ্টা পর স্বজনেরা লাশ বাড়িতে নিয়ে যান।
নিহত জোসনা আরা পার্শ¦বর্তী নওগাঁ জেলার বদলগাছী উপজেলার মিঠাপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা ছিলেন এবং মিঠাপুর গ্রামের আব্দুস সাত্তারের স্ত্রী।
নিহতের স্বজন ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুর ২টা ৫৭ মিনিটে বুকে ব্যথা নিয়ে আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে আসেন জোসনা আরা। সে সময় জরুরি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডা. সুমাইয়া তৃষা দুপুরের খাবারের জন্য বাইরে অবস্থান করছিলেন। জরুরি বিভাগে উপস্থিত ছিলেন স্যাকমো (সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার) চিকিৎসক নাহিদা সুলতানা।
তিনি রোগীর উপসর্গ শুনে দ্রুত দায়িত্বরত চিকিৎসককে ফোন দেন। তবে চিকিৎসক বাইরে থাকায় তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু শফি মাহমুদকে বিষয়টি অবহিত করেন। এর মধ্যে প্রায় ২০ মিনিট সময় অতিবাহিত হয়ে যায়। পরে ডা. আবু শফি মাহমুদ জরুরী বিভাগে এসে রোগীকে মৃত অবস্থায় পান। এতে নিহতের স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা দেখা দিলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ থানা পুলিশে খবর দিলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করে।
নিহতের মেয়ের জামাই হোসেন আলী অভিযোগ করে বলেন, আমার শ্বাশুড়ি বুকে ব্যথা নিয়ে আক্কেলপুর হাসপাতালে এসেছিলেন। তখন তিনি স্পষ্টভাবে কথা বলছিলেন। তিনি নিজেই বেডে শুয়ে পড়েন। কিন্তু জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সময়মতো না আসায় চিকিৎসা না পেয়ে তিনি মারা যান। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
জরুরি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডা. সুমাইয়া তৃষা বলেন, দুপুরের খাবারের জন্য আমি বাহিরে ছিলাম। জরুরি বিভাগের স্যাকমো (সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার) চিকিৎসক নাহিদা সুলতানার ফোন পেয়ে দ্রুত এসে পরীক্ষা নিরিক্ষা করে তাকে মৃত অবস্থায় পাই। সেই সময় জরুরী বিভাগে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু শফি মাহমুদ নিজেই দায়িত্বে ছিলেন।
আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন রেজা বলেন, জরুরী বিভাগে চিকিৎসক না থাকায় এক রোগী মৃত্যুর ঘটনায় স্বজনরা হাসপাতালে হইচই করছিল বলে হাসপাতাল থেকে খবর পাই। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু শফি মাহমুদ বলেন, জরুরী বিভাগে চিকিৎসক না থাকায় আমি নিজেই রোগীর কাছে গেছি। আমি গিয়ে রোগীকে মৃত অবস্থায় পেয়েছি। স্বজনদের সাথে কথা বলেছি তাদের কোন অভিযোগ নাই। এ ঘটনায় তথ্য বিভ্রাট হচ্ছে।

