লালমনিরহাট প্রতিনিধি:
ভোটারদের মাঝে টাকা বিতরণের অভিযোগকে সাজানো ও মিথ্যা দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন জনতার দল-এর চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) শামীম কামাল। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জেলার আদিতমারী উপজেলায় দলটির কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জনতার দলের চেয়ারম্যান অভিযোগ করে বলেন, জনতার দলের প্রার্থীর কলম প্রতীকের নির্বাচনী প্রচারণাকালে দলের নেতা রবীন্দ্রনাথ বাবুলের ওপর স্থানীয় কয়েকজন হামলা চালায়। এ সময় ভোটারদের মাঝে টাকা বিতরণের মিথ্যা অভিযোগ এনে তাকে কিল-ঘুষি মারার পাশাপাশি মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়।
তিনি বলেন, প্রায় দুই ঘণ্টা আটকে রেখে রবীন্দ্রনাথ বাবুলকে তল্লাশি করা হয়। এ সময় তার পকেট থেকে মাত্র ৫০০ টাকা পাওয়া যায়। পরে পুলিশ ও বিজিবির সহায়তায় তাকে কালীগঞ্জ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ঘটনার দুইজন সাক্ষীর বক্তব্যের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত রবীন্দ্রনাথ বাবুলকে দুই হাজার টাকা জরিমানা করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সাজানো ও মিথ্যা সাক্ষীর বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে এবং একপক্ষের কথা শুনেই এ সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় জনতার দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে শামীম কামাল বলেন, লালমনিরহাট-২ আসনে বর্তমানে আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, যা সুষ্ঠু নির্বাচনী কার্যক্রমকে ব্যাহত করতে পারে। তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভীতিমুক্ত নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
উল্লেখ্য, গত ৫ ফেব্রুয়ারি বিকেলে নির্বাচনী প্রচারণার সময় ভোটারকে টাকা দেওয়ার অভিযোগ এনে জনতার দলের আদিতমারী উপজেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ বাবুলকে স্থানীয় কয়েকজন আটক করেন। পরে নির্বাচনী দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শহিদ ইশরাক তাকে আটক করে ২ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
অন্যদিকে স্থানীয়রা জানান, নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ পাওয়ায় প্রশাসনকে জানানো হয় এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তারা হামলা বা ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

