সত্যজিৎ দাস (মৌলভীবাজার প্রতিনিধি):
মৌলভীবাজারে পর্নোগ্রাফি ও চাঁদাবাজির একটি মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৯। বুধবার (১১ মার্চ) রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
র্যাব জানায়,ভুক্তভোগী মৌলভীবাজার সদর মডেল থানার দক্ষিণ কলিমাবাদ এলাকার বাসিন্দা এবং সৌদি আরবে প্রবাসী। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আসামি পঙ্খী আলীর সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। নিয়মিত ভিডিও কলে কথা বলার সময় বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে ভুক্তভোগীর কিছু ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি স্ক্রিনশট আকারে সংরক্ষণ করে আসামি।
পরবর্তীতে ওই ছবিগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ভুক্তভোগীর কাছে ৫ লাখ টাকা দাবি করা হয়। সম্মানহানির ভয়ে প্রথমে ভুক্তভোগী সৌদি আরব থেকে ওয়েস্টার্ন ইউনিয়নের মাধ্যমে ২০০ রিয়াল (প্রায় ৬ হাজার ৬০০ টাকা) পাঠান। এরপর বিভিন্ন সময়ে আরও ২ লাখ ২১ হাজার টাকা আদায় করা হয়। তবুও আসামি পুনরায় ৫ লাখ টাকা দাবি করে হুমকি দিতে থাকে।
ভুক্তভোগী আর টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত ১৪ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে আসামি ভুক্তভোগীর অশ্লীল ছবি তার আত্মীয়স্বজনের মোবাইলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে পাঠিয়ে দেয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে মৌলভীবাজার মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলার পর র্যাব-৯ ঘটনাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৯, সিপিসি-২,কমলগঞ্জ উপজেলা’র বটতলা এলাকায় পাহাড়ি চা ঘরের সামনে বুধবার রাত আনুমানিক ১০টা ৪৫ মিনিটে অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি পঙ্খী আলী (৪৩)-কে গ্রেফতার করা হয়। তিনি কমলগঞ্জ উপজেলার বটেরতল এলাকার বাসিন্দা।
গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মৌলভীবাজার সদর মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাব-৯ সিলেটের মিডিয়া অফিসার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন,দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র্যাব-৯ এর গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।

