পাকিস্তান সৌদি আরবে একটি সামরিক বাহিনী ও যুদ্ধবিমান পাঠিয়েছে। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় শনিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই মোতায়েনের লক্ষ্য দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত যৌথ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তিকে আরও শক্তিশালী করা।
সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী ও পাকিস্তান বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান এবং সহায়তাকারী বিমান সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের কিং আব্দুল আজিজ বিমানঘাঁটিতে পৌঁছেছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “পাকিস্তানি বাহিনীতে পাকিস্তান বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান ও সহায়তাকারী বিমান রয়েছে। এর উদ্দেশ্য দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে যৌথ সামরিক সমন্বয় বাড়ানো এবং অপারেশনাল প্রস্তুতির মান উন্নয়ন করা।”
এই মোতায়েন দুই ‘ভ্রাতৃপ্রতিম’ দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত যৌথ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তির আওতায় সৌদি আরবের নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য করা হয়েছে। গত বছর সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘স্ট্র্যাটেজিক মিউচুয়াল ডিফেন্স এগ্রিমেন্ট’-এর আওতায় এটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। চুক্তি অনুসারে, যেকোনো এক দেশের ওপর আক্রমণকে উভয় দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের হামলায় সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং একজন সৌদি নাগরিক নিহত হওয়ার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। পাকিস্তানের একজন জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা বলেছেন, “তারা কাউকে আক্রমণ করতে যায়নি, শুধু নিরাপত্তা জোরদার করতে গেছে।”
পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে দীর্ঘদিনের কৌশলগত ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। সৌদি আরব পাকিস্তানকে অর্থনৈতিক সহায়তা ও জ্বালানি সরবরাহ করে থাকে। এই সামরিক সহযোগিতা দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গভীর করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকগণ।

