মোঃ তৌহিদুর রহমান, রাজবাড়ী প্রতিনিধি
রাজবাড়ী-২ (পাংশা–বালিয়াকান্দি–কালুখালী) আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশীদ বলেছেন, ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিএনপিকে রাষ্ট্রক্ষমতায় আনলে রাজবাড়ীর পাংশায় পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ বাস্তবায়ন করা হবে। এ ব্যারাজ নির্মিত হলে রাজবাড়ীসহ দেশের ২৯টি জেলার মানুষ সরাসরি সুফল পাবে।
এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে আজ দেশ স্বৈরাচারমুক্ত হয়েছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে অসংখ্য ছাত্র-জনতা রক্ত দিয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পথে দেশ এগোচ্ছে।
হারুন অর রশীদ বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে সারা দেশের মতো রাজবাড়ী-২ আসনের মানুষও বিএনপিকে সমর্থন দিয়ে ধানের শীষে ভোট দিতে মুখিয়ে রয়েছে। জাতীয় নির্বাচনের আগে বিএনপি তাদের ইশতেহার ঘোষণা করেছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফার মধ্যে ৮টি গুরুত্বপূর্ণ পিলার রয়েছে। এর অন্যতম হচ্ছে পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা ব্যারাজসহ মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন।
তিনি আরও বলেন, ফরিদপুর বিভাগের ১৫টি আসনের জনসভায় তারেক রহমান স্পষ্টভাবে ঘোষণা দিয়েছেন—জনগণ যদি বিএনপিকে ভোট ও সমর্থন দিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় আনে, তাহলে নদীভাঙন রোধ, পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ এবং ফরিদপুর বিভাগ বাস্তবায়ন করা হবে। পদ্মা ব্যারাজ যেহেতু রাজবাড়ী-২ আসনের পাংশার হাবাসপুর এলাকায় নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, তাই এই অঞ্চলের উন্নয়ন হবে বহুমাত্রিক।
ব্যারাজ নির্মাণ হলে শিল্পকারখানা গড়ে উঠবে, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এতে রাজবাড়ী অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নের দ্বার উন্মুক্ত হবে। তিনি উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির অংশীদার হতে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
জানা গেছে, পদ্মা নদীতে ব্যারাজ নির্মাণের বিষয়ে রাজবাড়ীর পাংশা অঞ্চলকে সবচেয়ে উপযোগী বিবেচনা করে দীর্ঘ ছয় দশক ধরে আলোচনা ও পরিকল্পনা চলছে। ফারাক্কা ব্যারাজ নির্মাণের পর ভারত গঙ্গার পানি ভাগীরথী-হুগলি নদীতে প্রবাহিত করায় বাংলাদেশের পদ্মা নদীতে পানিপ্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। এর ফলে কৃষি, মৎস্য, নৌ চলাচল ও নদীর জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।প্রস্তাবিত পদ্মা ব্যারাজের মূল লক্ষ্য হচ্ছে শুষ্ক মৌসুমে দক্ষিণাঞ্চলের নদীগুলোতে পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করা, নদীভাঙন রোধ, লবণাক্ততা হ্রাস এবং সুন্দরবনের পরিবেশ রক্ষা। প্রকল্পের মাধ্যমে বছরে প্রায় ২ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনমিটার পানি সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।
প্রকল্প পরিকল্পনা অনুযায়ী, পাংশা অঞ্চলে ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ ব্যারাজ নির্মাণ করা হবে। এতে থাকবে ৭৮টি স্পিলওয়ে গেট ও ১৮টি আন্ডার স্লুইস গেট। নৌ চলাচলের জন্য থাকবে একটি নেভিগেশন লক এবং মাছ চলাচলের জন্য দুটি ফিশ পাস। ব্যারাজের ওপর দিয়ে নির্মিত হবে ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ রেলসেতু এবং থাকবে ১১৩ মেগাওয়াট ক্ষমতার জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র।বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। নির্মাণ সামগ্রীর মান যাচাইয়ে একটি ডেডিকেটেড ল্যাব স্থাপন করা হবে এবং প্রকৌশল সহায়তায় যুক্ত থাকবে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)।
ব্যারাজ নির্মিত হলে হিসনা-মাথাভাঙ্গা, গড়াই-মধুমতী, চন্দনা-বারাশিয়া, ইছামতী ও বড়াল নদীসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদীগুলোতে পানিপ্রবাহ বাড়বে। প্রায় ১৯ লাখ হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা সম্প্রসারিত হবে, ফলে রাজবাড়ী, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, পাবনা, বরিশাল ও রাজশাহী অঞ্চলে কৃষি উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। শুষ্ক মৌসুমে প্রতি সেকেন্ডে অন্তত ৫৭০ ঘনমিটার পানি ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যা পানি সংকট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

