শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার পর দেশের বিভিন্ন এলাকায় রিখটার স্কেলে ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এ কম্পনে ঢাকার পুরান অংশ, নারায়ণগঞ্জ এবং নরসিংদী এলাকায় মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতি ঘটে এবং কমপক্ষে পাঁচজন নিহত ও দুইশোরও বেশি আহত হয়েছে।
ঢাকার বংশাল এলাকায় রেলিং ভেঙে পরার ফলে তিনজন মারা যায়। নারায়ণগঞ্জ, রূপগঞ্জ এলাকায় একটি দেয়াল ধসের কারণে এক শিশু নিহত হন। নরসিংদী, পলাশ (মালিতা গ্রাম) এলাকায় ৭৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ দেয়াল চাপা পড়ে মারা যান।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত ২০৮ জন আহত হয়েছেন এবং বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনজন নিহতদের দেহে আনা হয় এবং আহতরা চিকিৎসা নিচ্ছেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজে কমপক্ষে ১৮ জন আহত ভর্তি হয়েছেন। গাজীপুর তাজউদ্দীন মেডিকেল কলেজে ৭২ জন আহত এসেছেন, তাদের মধ্যে ৪৯ জন ভর্তি। শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫৩ জন চিকিৎসা নিয়েছেন এবং কিছু রোগীকে অন্য হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। নরসিংদী জেলায় ৪৫ জন আহত, যার মধ্যে ৩ জনের অবস্থা গুরুতর।
প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস নিহতদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে শোক প্রকাশ করেছেন এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনায় সবাইকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। তিনি আরও জানিয়েছে, সরকারী ও স্থানীয় সংস্থাগুলো দ্রুতভাবে উদ্ধার ও চিকিৎসা কার্যক্রম জোরদার করছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলেছে, মৃত ও আহতদের তথ্য যাচাই এবং আরও নিখুঁত হিসাব করা হচ্ছে। তারা সতর্ক করেছেন যে, ক্ষয়ক্ষতির পর পুরো চিত্র প্রকাশ পেতে কিছু সময় লাগতে পারে।

