আব্দুস সালাম মোল্লা, স্টাফ রিপোর্টার:
দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম পেঁয়াজ উৎপাদনকারী জেলা ফরিদপুরে এবার ভালো ফলন হলেও বাজারদর কমে যাওয়ায় চাষিদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। মৌসুমের শেষ দিকে এসে পেঁয়াজ তোলার কাজ প্রায় শেষ হলেও উৎপাদন খরচের সঙ্গে বাজারদরের বড় ব্যবধান কৃষকদের লোকসানে ফেলছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে ফরিদপুরে প্রায় ৪৮ হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও বাস্তবে আবাদ হয়েছে আরও বেশি জমিতে। বিশেষ করে সালথা, নগরকান্দা, ভাঙ্গা, বোয়ালমারী ও মধুখালী উপজেলায় ব্যাপক আকারে পেঁয়াজ চাষ হয়েছে।
মাঠ পর্যায়ে দেখা গেছে, কোথাও কৃষকরা খেত থেকে পেঁয়াজ তুলছেন, আবার কেউ বস্তায় ভরে বাজারে নিচ্ছেন। তবে বাজারে ক্রেতার তুলনায় বিক্রেতার সংখ্যা বেশি হওয়ায় দাম বাড়ছে না। বিভিন্ন হাটে বর্তমানে প্রতি মণ দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ১১০০ টাকার মধ্যে, যা উৎপাদন খরচের তুলনায় অনেক কম।
সালথা উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, এ মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ১২ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়েছে। কৃষকদের হিসাবে সার, বীজ, কীটনাশক, শ্রমিক মজুরি ও সেচসহ প্রতি মণ পেঁয়াজ উৎপাদনে খরচ পড়েছে প্রায় ১৪০০ থেকে ১৫০০ টাকা। ফলে প্রতি মণে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনতে হচ্ছে।
সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের বাসুয়াকান্দি গ্রামে কৃষক মাসুদ সেক জানান, এ বছর ফলন ভালো হয়েছে, কিন্তু দাম কম থাকায় খরচই উঠছে না। অনেকেই ধার-দেনা করে চাষ করেছেন, এখন সেই টাকা পরিশোধ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
তালমা বাজারসহ জেলার বিভিন্ন পাইকারি হাট ঘুরে দেখা যায়, নগদ অর্থের প্রয়োজন মেটাতে অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি করছেন। এতে করে লোকসান মেনে নিয়েই বাড়ি ফিরছেন তারা।
কৃষকদের দাবি, ধান-গমের মতো পেঁয়াজেরও সরকারি ন্যূনতম মূল্য নির্ধারণ এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে সংরক্ষণ সুবিধা (কোল্ডস্টোরেজ) গড়ে তোলা জরুরি। এতে করে তারা তাৎক্ষণিক কম দামে বিক্রি না করে পরবর্তীতে ভালো দামে বিক্রির সুযোগ পাবেন।
সালথা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুদর্শন সিকদার বলেন, বাজারে চাহিদা কম এবং সরবরাহ বেশি থাকায় দাম কমেছে। অনেক কৃষক ঋণ পরিশোধের চাপে পেঁয়াজ বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। তিনি পরামর্শ দেন, সম্ভব হলে কিছুদিন পেঁয়াজ সংরক্ষণ করে রাখলে ভবিষ্যতে ভালো দাম পাওয়া যেতে পারে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. শাহাদুজ্জামান জানান, লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি আবাদ হওয়ায় বাজারে সরবরাহ বেড়েছে। চাহিদা তুলনামূলক কম থাকায় দাম কমেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সংরক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

