সাভারে গ্রেপ্তার হওয়া কথিত ‘সিরিয়াল কিলার’ সম্রাটের বিরুদ্ধে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে। আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে ছয়টি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন তিনি। তবে তার দেওয়া তথ্য ও পরিচয় যাচাই করে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।
ঢাকা জেলা পুলিশের সাভার সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান জানান, অভিযুক্ত আদালতে যেসব তথ্য দিয়েছেন, সেগুলোর সত্যতা যাচাই-বাছাই করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
পুলিশের তথ্যমতে, অভিযুক্তের প্রকৃত নাম সবুজ শেখ। তিনি মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং থানার হলুদিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা বলে দাবি করেছেন। তবে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন নাম, ঠিকানা ও পিতার নাম বলায় তার বক্তব্য নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে পুলিশ।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সবুজ শেখ দাবি করেন, তিনি ভবঘুরে নারীদের নির্জন স্থানে নিয়ে যেতেন এবং শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করতেন। তার দাবি অনুযায়ী, ওই নারীরা অন্য কারও সঙ্গে সম্পর্ক করলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে হত্যাকাণ্ড ঘটাতেন।
পুলিশ জানায়, সর্বশেষ ঘটনায় তানিয়া ওরফে সোনিয়া নামে এক ভবঘুরে তরুণীকে পৌর কমিউনিটি সেন্টারে রাখা হয়। পরে ওই তরুণীর সঙ্গে আরেক ভবঘুরে যুবকের সম্পর্কের অভিযোগে প্রথমে যুবককে এবং পরে তরুণীকেও হত্যা করা হয়। এরপর দুটি লাশ পুড়িয়ে ফেলা হয় বলে অভিযুক্ত দাবি করেছেন।
সোমবার ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন সবুজ ওরফে সম্রাট। জবানবন্দি শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত সাত মাসে সাভারের বিভিন্ন এলাকায় ছয়টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সর্বশেষ ১৮ জানুয়ারি পৌর কমিউনিটি সেন্টার এলাকা থেকে দুটি পোড়া লাশ উদ্ধারের পর সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তকে আটক করা হয়।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরমান আলী জানান, অভিযুক্তের আচরণ অস্বাভাবিক এবং সব তথ্য গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করে তদন্ত চলছে।

